ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট একটি সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) বিল আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে শত শত রাজনীতিবিদ, কর্মী ও আইনজীবীর মুক্তির পথ খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সরকারি অস্বীকারের বিপরীতে এ আইন কার্যত স্বীকার করছে যে দেশে রাজনৈতিক কারণে আটক ব্যক্তি রয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই আইনটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এসেছে। জানুয়ারির শুরুতে রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের পর সরকার নানা নীতিগত পরিবর্তন আনে।
মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনাল জানিয়েছে, ৮ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪৪৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের হিসাব অনুযায়ী, এখনও ৬০০ জনের বেশি ব্যক্তি রাজনৈতিক কারণে আটক রয়েছেন।
নতুন আইন অনুযায়ী, ২০০২ সালের স্বল্পস্থায়ী অভ্যুত্থান, ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে হওয়া বিক্ষোভ ও নির্বাচনী সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের জন্য সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে। তবে কোন কোন অপরাধ এর আওতায় পড়বে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পূর্ববর্তী খসড়ায় বেআইনি কর্মকাণ্ডে উসকানি, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে ২০১৯ সালের ঘটনায় “সামরিক বিদ্রোহে” দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা এই আইনের আওতামুক্ত থাকবেন। এছাড়া আটক ব্যক্তিদের জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া, রাজনৈতিক কারণে দেওয়া সরকারি পদে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাতিলের বিষয়টি আইনে নেই।
বিরোধী শিবিরের মধ্যে এ আইন নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিরোধী নেতা নোরা ব্রাচো আইনটিকে পুনর্মিলনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী পেদ্রো উররুচুর্তু একে “অবৈধ ও সময়ক্ষেপণের ফাঁদ” বলে সমালোচনা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–এর অপহরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। রদ্রিগেজ কিউবায় তেল রপ্তানি স্থগিত এবং রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল খাত বিদেশি কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির আয় একটি “প্রতিনিধিত্বশীল সরকার” প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
-বেলাল










