একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে নিশ্ছিদ্র: নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেন ডিএমপি কমিশনার

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ যেভাবে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করেছে, একুশের অনুষ্ঠানেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনার এলাকায় নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সোয়াট (SWAT) ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া পুরো এলাকা জুড়ে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে জোরদার সাইবার মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট রুট ম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সর্বসাধারণকে পলাশীর মোড় হয়ে জগন্নাথ হল ক্রসিং দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে হবে এবং অন্য কোনো রাস্তা প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নাগরিকদের রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর অথবা চানখাঁরপুল দিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থার সুবিধার্থে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে ডাইভারশন চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্ধারিত এই রুট অনুসরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জনসাধারণকে কোনো প্রকার ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় না আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নিজের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অন্যদের সুযোগ দিন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল শহীদ মিনার কেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো ঢাকা শহরকে সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান কমিশনার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বরাবরের মতো এবারও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেশবাসী মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করতে পারবে।

-লামিয়া আক্তার