কেরানীগঞ্জ কারাগারে সর্বোচ্চ ভোটার, সাবেক মন্ত্রী-এমপিও তালিকায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কারাগারে বা আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক গণভোটেও অংশ নিতে পারবেন।

কারা অধিদফতর সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির কারাগারে থাকা সাবেক ১৪ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ভোট দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এ ছাড়া ১৪ দলীয় জোটের দুই শরিক দলের নেতা, যারা মন্ত্রী ছিলেন, তারাও ভোট দেবেন।

সূত্রটি জানায়, আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা ভোট দিলেও দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছেন। বিভিন্ন মামলায় আটক বা পলাতক থাকার কারণে তারা ভোটে অংশ নিতে পারছেন না। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোটে উপস্থিতি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কারা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের কারাগার থেকে মোট ৬ হাজার ২৪০ জন বন্দি ভোটার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ জন জামিনে মুক্ত হয়েছেন। বাকি ৫ হাজার ৯৬০ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।

ভোটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা সাবেক মন্ত্রীরা হলেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকি।

এ ছাড়া ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের মধ্যে জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ভোট দেবেন।

সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন- ডা. এনামুর রহমান, শাহ আলম, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, শাহজাহান ওমর, সালাম মুরশিদ, সাদেক খান, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, আবু রেজা নাজিমউদ্দিন, নবী নেওয়াজ, ডা. আব্দুল আজিজ ও চয়ন ইসলাম। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামও ভোটার তালিকায় রয়েছেন।

উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান কারাগার থেকেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।

কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, বন্দিদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য আগেই সংগ্রহ করা ছিল। নির্বাচন কমিশনের তৈরি পোস্টাল অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ভোটগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশের মধ্যে কেরানীগঞ্জ কারাগারে ভোটার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৯৯০ জন। ভোটের দিন কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল থাকবে। কারাগারের যেসব কর্মকর্তা ভোটের দিন দায়িত্বে থাকবেন, তারাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।

কারা অধিদফতর জানায়, ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের নামে পৃথক খাম পাঠাবে। এতে থাকবে ব্যালট পেপার, নির্দেশনা এবং সই করার জায়গা। বন্দিরা ব্যালটে ভোট দিয়ে নির্ধারিত খামে তা সংরক্ষণ করবেন। পরে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খামগুলো পোস্ট অফিসে পাঠানো হবে। পোস্ট অফিস এক্সপ্রেস সার্ভিসে এসব ব্যালট নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে দেবে।

এজাজ আহমেদ