মাহে রমজানে পরিবার হোক ইবাদতের প্রাণকেন্দ্র

রমজান মাস কেবল ব্যক্তিগত কৃচ্ছ্রসাধনের মাস নয়, বরং এটি একটি পরিবারের আধ্যাত্মিক ভিত্তি মজবুত করার শ্রেষ্ঠ সময়। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো” (সূরা আত-তাহরীম: ৬)। এই পবিত্র মাসে প্রতিটি মুসলিম পরিবার যদি কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত হয়, তবে ঘরগুলো জান্নাতের বাগিচায় পরিণত হতে পারে।

রমজানে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে ইবাদতে মগ্ন থাকার পাশাপাশি তাঁর পরিবারকেও সচেতন করতেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “রমজানের শেষ দশক আসলে রাসূল (সা.) ইবাদতের জন্য কোমর শক্ত করে বেঁধে নিতেন, সারা রাত জেগে থাকতেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকেও জাগিয়ে দিতেন” (সহিহ বুখারি: ২০২৪)। এটি প্রমাণ করে যে, রমজানে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে ইবাদতের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া কর্তার অন্যতম দায়িত্ব।

রমজান হলো কুরআনের মাস। পরিবারে প্রতিদিন অন্তত একটি সময় নির্দিষ্ট করা উচিত যেখানে সবাই মিলে কুরআন তিলাওয়াত বা কুরআনের অর্থ নিয়ে আলোচনা করবে। রাসূল (সা.) এবং জিবরাঈল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে কুরআন পরস্পরকে শুনিয়ে রিভিশন দিতেন। এই সুন্নাহ অনুসরণ করে পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়।

রমজানে জামাতে নামাজ আদায়ের বিশেষ সওয়াব রয়েছে। বিশেষ করে সেহরি বা ইফতারের সময় যখন পরিবারের সবাই একত্র থাকে, তখন ঘরোয়াভাবেও নফল বা তাহাজ্জুদ নামাজ জামাতে আদায় করা যেতে পারে। তারাবিহর সালাতে পরিবারের তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে নামাজের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়।

ইফতারের সময়টি দোয়া কবুলের অন্যতম সময়। রাসূল (সা.) বলেছেন, “ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না” (ইবনে মাজাহ)। এই সময়ে পরিবারের সবাই মিলে দস্তরখানে বসে সম্মিলিতভাবে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করা অত্যন্ত বরকতময়। ছোটদের রোজা ও ইবাদতে উৎসাহিত করতে তাদের নিয়ে ইফতার ও সাহরি আনন্দময় করে তোলা। তবে ইফতার ও সেহরিতে অপচয় রোধ করা কুরআনের নির্দেশ, যা প্রতিটি পরিবারের মেনে চলা উচিত।

ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের রমজানের মাহাত্ম্য শেখানো জরুরি। তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট রোজা রাখা বা বড়দের ইবাদতে সাহায্য করার মাধ্যমে তাদের মনে ইবাদতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এছাড়া রমজানে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ইফতার করানোর মাধ্যমে পরিবারের মধ্যে সামাজিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা সঞ্চারিত হয়।

রমজান মাস আমাদের জন্য আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ। এই মাসে প্রতিটি পরিবার যদি টেলিভিশন বা অনর্থক বিনোদন থেকে দূরে থেকে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও সম্মিলিত ইবাদতে মশগুল থাকে, তবে সেই পরিবারে আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হবে। রমজানের এই আধ্যাত্মিক চর্চা যেন সারা বছরের পাথেয় হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি পরিবারের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

-মামুন