রাজধানীসহ সারাদেশে অনুমোদনহীন ‘সিসা লাউঞ্জ’ এবং মাদকের আস্তানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই আবেদন পেশ করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, বনানী ও গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় অনুমোদনহীন সিসা লাউঞ্জের আড়ালে নিষিদ্ধ মাদক সেবন ও কেনাবেচা চলছে। এই কার্যক্রম যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সমাজব্যবস্থাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। হুক্কা বা সিসা যে মাদকের অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনকারী আইনজীবী উল্লেখ করেন, পুলিশ কমিশনার সাজ্জাত আলী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে অতীতে অনেক সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু মাঠ প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে ও মাসোহারা বা ঘুষের বিনিময়ে সেই মাদক স্পটগুলো পুনরায় চালু হয়ে যাচ্ছে। ফলে অভিযানের সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। এই অসাধু কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর কথা স্মরণ করিয়ে বলা হয়, মাদকের উৎপাদন থেকে সেবন—সবই দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও মন্তব্য করেছেন যে, মাদক দমনে আইন প্রয়োগে কোনো প্রকার শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো আইনগত বাধা নেই।
অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন টাস্কফোর্স তৈরি করা। সারাদেশে সিসা লাউঞ্জ ও মাদক স্পটগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও নিয়মিত অভিযান চালানো। প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা। মাদক ব্যবসায় সহায়তাকারী পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের শনাক্ত করে শাস্তি প্রদান। অভিযান-পরবর্তী তদারকি নিশ্চিত করা যাতে বন্ধ হওয়া স্পট পুনরায় চালু না হয়।
–লামিয়া আক্তার









