দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সাতজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন, ঢাকা বিভাগে একজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুইজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পাঁচজন, খুলনা বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে চারজন রয়েছেন।
এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২২ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৬ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৯৮১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।(বাসস)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীত মৌসুম শেষ হয়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার বংশবিস্তার আবারও বাড়তে পারে। ফলে ফেব্রুয়ারি–মার্চ থেকেই ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ২০২৬ সালজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম এবং নাগরিক সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাধারণ জনগণকে বাড়ির আশপাশে তিন দিনের বেশি জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ, ফুলের টব, পানির ট্যাংক ও পরিত্যক্ত পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।
সাবরিনা রিমি/










