জলবায়ু বিপর্যয় প্রতিরোধে নগরকৃষি একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন বক্তারা। তারা বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শহরে সবুজের পরিমাণ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে, যা প্রতিবছর নগর তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নগরকৃষি হতে পারে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় স্থান অক্ষুন্ন রেখে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে সবুজায়ন করা হলে ইতিবাচক ও টেকসই ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হেলথব্রীজ ফাউন্ডেশন অব কানাডা, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত “জলবায়ু বিপর্যয় প্রতিরোধে স্বল্প পরিসরে সবুজায়ন” শীর্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান পর্ব উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তারা এ কথা বলেন।
মূল প্রশিক্ষণ পর্বে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা (কৃষি) ইমরান মিয়া শিক্ষার্থীদের স্বল্প পরিসরে কিভাবে সবুজায়ন করা সম্ভব এবং এক্ষত্রে মাটির উবর্বরতা, ধরণ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মাটির যে ক্ষতি সাধিত হয় এবং এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন করার লক্ষ্যে প্রাকৃতিক কম্পোস্টিং, রাসায়নিক সারের প্রভাব ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দাস বলেন, সময়োপযোগী এ আয়োজনের অংশীদার হতে পেরে বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল অনেক আনন্দিত। শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের হাতে নিরাপদ কৃষি চর্চা করবে, একদিকে পরিবেশ রক্ষায় সে সচেতন হয়ে উঠবে অন্যদিকে নিজের হাতে সবজি উৎপাদন করবে বলে তার মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ, এ কার্যক্রম পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। শিক্ষার্থীরা যে জ্ঞান অর্জন করবে তা নিজেদের-পরিবারের তথা সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলে স্বল্প পরিসরে সবুজায়ন বিষয়ক পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ কৃষি, কৃষির সাথে জলবায়ুর সম্পর্ক, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। একজন কৃষিবিদ এর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। আমাদের বিশ্বাস এ কার্যক্রমটি শিশুদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।
প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা স্কুলে সবুজায়ন অনুশীলন, উদ্যোগটি টেকসইকরণে পরিকল্পনা এবং বিদ্যালয়ে নগরকৃষি অনুশীলনের উপকারিতা বিষয়ে তাদের অভিমত তুলে ধরে।
–বায়েজীদ










