বর্তমান বিনোদন দুনিয়ায় আলোচনায় থাকা যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। নতুন সিনেমা হোক বা ব্যক্তিগত জীবন সোশ্যাল মিডিয়া, প্রচারণা ও জনসংযোগ কৌশলের মাধ্যমে সব সময় সামনে থাকতে পারলেই সাফল্যের মাপকাঠি মনে হয়। তবে এই ধারা থেকে সচেতনভাবেই দূরে থাকতে চান অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালা। তিনি বিশ্বাস করেন, অতিরিক্ত প্রচারণার চেয়ে কাজের মাধ্যমে দর্শকের সামনে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সবিতা জানালেন, ক্যারিয়ারের কিছু সময় তিনি জনসংযোগ টিমের সঙ্গে কাজ করেছেন, তবে তা তার ব্যক্তিত্ব বা জীবনদর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তিনি মনে করেন, সবসময় সংবাদে থাকা বা ২৪ ঘণ্টা দৃশ্যমান থাকা তার জন্য জরুরি নয়। অভিনেত্রীর মতে, প্রত্যেক শিল্পীর পথ আলাদা। কারও জন্য জনসংযোগ কাজে লাগে, আবার কারও জন্য নাও লাগতে পারে। নিজের স্বাচ্ছন্দ্য এবং পছন্দ অনুযায়ী তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কাজের মাধ্যমে পরিচিত হতে চান, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে নয়।
বলিউড ও ওটিটির বর্তমান সংস্কৃতিতে প্রায়ই দেখা যায় সিনেমার চেয়ে প্রচারণা বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে। কখনো পোশাক, কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আবার কখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত উপস্থিতি—এসব যেন ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সবিতা বলেন, তিনি সব প্রশ্নের উত্তর জানেন না, তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছেন কোন জীবনধারা তাঁকে মানায়। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে আসা একজন শিল্পী হিসেবে তিনি ধীরে ধীরে নিজস্ব ছন্দ তৈরি করেছেন।
সাক্ষাৎকারে সবিতা তেলেগু সিনেমায় ফিরতে পেরে আনন্দিত। মাতৃভাষার একটি প্রজেক্টে কাজ করা ‘স্বস্তিদায়ক’ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মাতৃভাষায় অভিনয় করতে গেলে সংলাপের সঙ্গে অনুভূতির সংযোগ আরও স্বাভাবিক হয়। জটিল বা দ্রুত সংলাপ বলার সময় ভাষাগত স্বাচ্ছন্দ্য অভিনয়কে আরও প্রাঞ্জল করে। দীর্ঘদিন পর তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরে আসা সবিতার জন্য এটি নতুন আনন্দের অধ্যায়।
-বিথী রানী মণ্ডল










