ঝাড়ু হাতে ভোরে রাজপথে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সকালেই চমক দেখালেন ডা. শফিকুর রহমান। আজ বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে রাজধানীর মিরপুরে নিজ হাতে রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনি। এ সময় তিনি কেবল রাজপথের ময়লা নয়, বরং সমাজের ‘মানসিক আবর্জনা’ দূর করার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ভোরবেলা মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল বালিকা শাখা সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন ডা. শফিকুর রহমান। নামাজ শেষে মসজিদের সামনের রাস্তায় সহকর্মীদের নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামেন তিনি। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে একটানা রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে তিনি এলাকাবাসীকে এক পরিচ্ছন্ন সমাজের বার্তা দেন।

ঝাড়ু হাতে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন: “আমরা সমাজদেহ পরিচ্ছন্ন করতে চাই। তার শুরুটা করছি রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা দিয়ে। পরিবেশ সুন্দর থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতের ওপর পড়ে। আমরা এমন এক আদর্শ সমাজ গড়তে চাই যেখানে দল-মত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের দায়িত্ববোধ জাগ্রত হবে।”

তিনি ঘোষণা করেন, এটি কোনো একদিনের ‘লোক দেখানো’ কর্মসূচি নয়। এখন থেকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি ইউনিট অন্তত আধা ঘণ্টা নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কারের কাজ করবে।

এ সময় সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন: “জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে তারেক রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, আর আমিও বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না। সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া মানে জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করা। জুলাই সনদের প্রতিটি প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা এই সংসদের পবিত্র দায়িত্ব।”

মিরপুর-কাফরুল এলাকাকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, সরকার বা বিদেশের ফান্ডের দিকে তাকিয়ে না থেকে তারা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি তাঁর সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সাথে নিয়ে ভ্রাতৃত্বমূলক সমাজ গড়ার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, তিনি ঢাকায় থাকলে প্রতিদিন ফজরের পর এলাকায় এসে রাস্তা ঝাড়ু দেবেন। আর ঢাকার বাইরে সফরে থাকলেও সহকর্মীদের নিয়ে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখবেন।

লামিয়া আক্তার