রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অ্যাঙ্গোলার খ্যাতনামা সাংবাদিক তেক্সেইরা ক্যান্ডিদো এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ২০২৪ সালের মে মাসে স্পাইওয়্যার দিয়ে সংক্রমিত হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় ক্যান্ডিদো অ্যাঙ্গোলান সাংবাদিকদের সংগঠন ‘সিন্ডিকেট অব অ্যাঙ্গোলান জার্নালিস্টস’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে তার ফোনে ধারাবাহিকভাবে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হয়। ৪ মে একটি বার্তায় থাকা লিঙ্কে ক্লিক করার পর তার ফোনে ‘প্রেডেটর’ নামের স্পাইওয়্যার প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে আক্রমণকারীরা তার ফোনের সমস্ত তথ্যের ওপর পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার পায়।
এই স্পাইওয়্যারটি তৈরি করেছে নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টেলেক্সা। গবেষক ও মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টেলেক্সার স্পাইওয়্যার অতীতে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনায় জড়িত ছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, অ্যাঙ্গোলায় প্রেডেটর ব্যবহারের এটি প্রথম নিশ্চিত ঘটনা। তবে এ ঘটনার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি গ্রাহকের সংশ্লিষ্টতা তারা উল্লেখ করেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইন্টেলেক্সার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আইনজীবী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেননি।
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে রয়টার্সকে পাঠানো এক ইমেইলে ক্যান্ডিদো বলেন, “আমি নিজেকে উন্মুক্ত মনে করছি, যেন বাথরুমের দরজা পুরো খোলা রেখে গোসল করছি।” তিনি জানান, তার ফোন থেকে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত নন। তাকে টার্গেট করতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিজেকে শিক্ষার্থীদের একটি দলের সদস্য পরিচয় দিয়ে তার মতামত চেয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চে ইন্টেলেক্সা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে “বিকেন্দ্রীকৃত কোম্পানির জটিল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যারা অত্যন্ত অনুপ্রবেশমূলক স্পাইওয়্যার তৈরি ও বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করেছে। এসব প্রযুক্তি সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, নীতিনির্ধারক ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
তবে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইন্টেলেক্সার তিন নির্বাহীকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়। এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইন্টেলেক্সা কনসোর্টিয়াম থেকে নিজেদের পৃথক করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে প্রমাণ দিয়েছেন। ঘটনাটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নজরদারির ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
সাবরিনা রিমি/










