কূটনীতির দায়িত্ব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

নতুন বাংলাদেশের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিজ্ঞ পেশাদার কূটনীতিক এবং চৌকস রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটাল তারেক রহমানের নতুন সরকার।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেওয়া ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন টেকনোক্র্যাট কোটায় খলিলুর রহমান। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক খলিলুর রহমানের নিয়োগকে অনেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে নির্বাচিত সরকারের একটি টেকসই ও সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে রোহিঙ্গা বিষয়ক ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা’ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মূলত চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দলের বিদেশ বিষয়ক কমিটির (FRC) একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে পরিচিত। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও এজেন্ডা তুলে ধরতে তিনি পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই তরুণ নেত্রীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর পৌঁছে দেওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মোট ৪৯ জন সদস্য (প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ জন)। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন পেশাদার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেত্রীকে বসানো হয়েছে মূলত ‘পেশাদারিত্ব ও রাজনীতির’ ভারসাম্য বজায় রাখতে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দায়িত্ব নেওয়ার পর নবনিযুক্ত মন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করাই হবে এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, শামা ওবায়েদ প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

-লামিয়া আক্তার