জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে শিক্ষা খাতের সংস্কার ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ওপরই আস্থা রাখল তারেক রহমানের নতুন সরকার।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
২০০১-০৬ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন নকলমুক্ত পরীক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে তার কঠোর ও সফল ভূমিকা আজও ছাত্র-শিক্ষক মহলে আলোচিত। সম্ভবত সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার তাকে শিক্ষার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে নিরঙ্কুশ জয় পান ড. মিলন।
প্রাপ্ত ভোট: ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: জামায়াতে ইসলামীর আবু নসর আশরাফী (৬৭ হাজার ৭৭ ভোট)। ভোটের ব্যবধান এবং জনগণের সমর্থনই তাকে সরকারে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গতকাল সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির ‘ভিশন ২০৩০’ ও ‘জুলাই সনদ’-এ। দুই মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে শিক্ষানীতি ও কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেই মিলনকে এই দ্বৈত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শিক্ষা খাতে একীভূত ও গতিশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত।
নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ড. মিলনের সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করা এবং বিগত সরকারের আমলে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সংস্কার করা। কচুয়া থেকে আসা এই নেতা এর আগেও ‘নকলের যম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন; এবার তার লক্ষ্য হবে ‘বৈষম্যহীন ও কর্মমুখী শিক্ষা’ প্রতিষ্ঠা করা।
চাঁদপুর ও কচুয়া এলাকায় তার মন্ত্রী হওয়ার খবরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, কচুয়ার মাটি ও মানুষের নেতা এখন জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার সংকট নিরসনে মূল কাণ্ডারি হিসেবে কাজ করবেন।
-লামিয়া আক্তার










