অনন্য রেকর্ড: তিন বছরে তিন সরকারের শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল এবং অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শাসনকাঠামোর সরকারকে শপথ পাঠ করিয়ে এক নতুন রেকর্ড গড়লেন।
সাধারণত একজন রাষ্ট্রপতি তার ৫ বছরের মেয়াদে বড়জোর এক বা দুইবার মন্ত্রিসভার শপথ পড়ানোর সুযোগ পান, কিন্তু তিনি মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের সরকারকে শপথ পাঠ করিয়েছেন।
এই যাত্রার প্রথম মাইলফলকটি ছিল ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি, যখন তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে শপথ পড়ান। তবে সেই বছরেরই ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
দেশের এই চরম ক্রান্তিলগ্নে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ পাঠ করান।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই ধারা এখানেই থেমে থাকেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া ও দীর্ঘ দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি জোট। ফলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
২০২৪ থেকে ২০২৬-পর পর তিন বছরে তিনটি পৃথক শাসনকাঠামোর (নির্বাচিত দলীয় সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং পুনরায় নির্বাচিত দলীয় সরকার) অভিষেক ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও কারিগর হিসেবে নিজের নাম খোদাই করে রাখলেন।
মঙ্গলবারের (১৭ ফেব্রুয়ারি)  অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানটি সংসদ ভবনের উন্মুক্ত দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য এক নতুন ভেন্যু হিসেবে পরিচিতি পেল।
বিশ্লেষকদের মতে, একই রাষ্ট্রপতির হাত দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের তিনটি সরকারের অভিষেক হওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার এক বিস্ময়কর প্রতিফলন।
-লামিয়া আক্তার