মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল সুবিধা দিতে নেওয়া হয় সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম সাইজড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসএমইডিপি-২)। কিন্তু নানা জটিলতায় তহবিলের পুরো অর্থ সময়মতো বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। সেই অব্যবহৃত অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করে মুনাফা পাওয়া গেছে। আর সেই অর্জিত মুনাফার একটি অংশ ব্যয় করে এবার সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ছয় কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে মনোনীত কর্মকর্তার বিদেশযাত্রার সরকারি অনুমোদন দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, প্রকল্পের বিনিয়োগ কমিটি অব্যবহৃত অর্থ ট্রেজারি বিলে রেখে ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট হিসাবেও জমা করা হয়েছে। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কমিটির সদস্য ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্য সুইজারল্যান্ড সফরের অনুমতি দিয়েছেন।
আগামী ৭ থেকে ১৩ মার্চ সুইজারল্যান্ডে একটি আন্তর্জাতিক এসএমই উন্নয়ন ও উদ্ভাবন ব্যবস্থা-সংক্রান্ত এ কর্মশালায় অংশ নেবেন তারা। আয়োজনটি করছে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিএমসি। অভিজ্ঞতা অর্জনমূলক এ সফরের সমুদয় ব্যয় বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার সংরক্ষিত অংশ থেকেই বহন করা হবে বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে।
সফরকারী দলে রয়েছেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব রুখসানা রহমান, উপসচিব মো. আমিন শরিফ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মুনিরা ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম পরিচালক টুটুল হোসাইন মল্লিক ও প্রশান্ত মোহন চক্রবর্তী। অর্থ বিভাগের মনোনীত সদস্য হিসেবে রুখসানা রহমানের নামে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন জারির অনুরোধ করা হয়েছে।
২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ নিয়ে এসএমইডিপি-২ শীর্ষক এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়। সরকার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণের অর্থে গঠিত এ তহবিলের উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাম ও মফস্বলের উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারিত হতে পারে। ব্যাংকগুলো তহবিল থেকে প্রায় ২ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের দেওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় তহবিলের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ে বিতরণ করা যায়নি। ফলে অর্থ দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত পড়ে থাকে।
-মহিন









