অস্কারজয়ী রবার্ট ডুভল আর নেই

হলিউডের কালজয়ী অভিনেতা ও অস্কারজয়ী রবার্ট ডুভল আর নেই। বিশ্ব চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য অভিনয়শৈলী দিয়ে ছাপ রেখে যাওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেতা রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভার্জিনিয়ার মিডলবার্গে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন তার স্ত্রী লুসিয়ানা পেদ্রাজা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর প্রতিবেদনেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ডুভল শুধু একজন অভিনেতা নন, একজন নীতিবান ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন শিল্পী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৯০ সালে পারিশ্রমিক বৈষম্যের কারণে দ্য গডফাদার পার্ট থ্রি–তে অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। শিল্পের মর্যাদা ও শিল্পীর সম্মান—দুটিকেই তিনি সবসময় সমান গুরুত্ব দিয়েছেন।

১৯৩১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া ডুভলের শৈশব থেকেই ছিল শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ। তবে অভিনয়ে আসার আগে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সেনাজীবন শেষে নিউইয়র্কে অভিনয় শেখার জন্য ভর্তি হন একটি খ্যাতনামা অভিনয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সেখানে তার সহপাঠী ছিলেন পরবর্তীতে হলিউডের আরেক দুই কিংবদন্তি তারকা—ডাস্টিন হফম্যান ও জিন হ্যাকম্যান। এই সময় থেকেই গড়ে ওঠে তার অভিনয়জীবনের ভিত্তি।

ছয় দশকেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রবার্ট ডুভল নিজেকে হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ও সম্মানিত অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সংযত অথচ শক্তিশালী সংলাপ উপস্থাপন, চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার অসাধারণ দক্ষতা এবং বাস্তবধর্মী অভিনয়—এই তিন বৈশিষ্ট্যের জন্য তিনি সমালোচক ও দর্শক—উভয়ের কাছেই সমানভাবে প্রশংসিত ছিলেন।

ডুভলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্রগুলোর একটি ছিল দ্য গডফাদার ছবিতে কর্লিওন পরিবারের বিশ্বস্ত উপদেষ্টা ‘টম হ্যাগেন’। এই চরিত্র তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয় এবং চলচ্চিত্র ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে দেয়। একইভাবে টেন্ডার মার্সিস ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা লাভ করেন একাডেমি অ্যাওয়ার্ড থেকে, যা তাকে অভিনয়ের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যায়।

এছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন অ্যাপোক্যালিপস নাউ, টু কিল আ মকিংবার্ড এবং লোনসাম ডাভ–এর মতো বহু কালজয়ী প্রযোজনায়। প্রতিটি কাজেই তিনি নিজস্ব অভিনয়শৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাতার ভূমিকাতেও ছিলেন সফল। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে দ্য অ্যাপোস্টল এবং অ্যাসাসিনেশন ট্যাঙ্গো।

তার শিল্পজীবনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে ন্যাশনাল মেডেল অব আর্টস প্রদান করে। এই সম্মান তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কিংবদন্তি অভিনেতার কোনো আনুষ্ঠানিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে না। বরং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে তার অভিনীত প্রিয় কোনো চলচ্চিত্র দেখা অথবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সুন্দর স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করার জন্য।

রবার্ট ডুভলের প্রস্থান বিশ্ব চলচ্চিত্রের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার অসাধারণ অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে যাবে দীর্ঘদিন।

-বিথী রানী মণ্ডল