সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (X) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok)–এর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও যৌন বিকৃত ছবি তৈরির অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন কমিশন (DPC)।
আইরিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, এক্সের ইউরোপীয় ইউনিয়নভিত্তিক কার্যক্রম আয়ারল্যান্ডে পরিচালিত হওয়ায় তারাই প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে তদন্ত করছে। তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা আইন (GDPR) অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে এক্স তাদের বাধ্যবাধকতা পালন করেছে কি না তা যাচাই করা।
সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, এক্সের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান xAI–এর তৈরি চ্যাটবট Grok ব্যবহারকারীদের অনুরোধে বাস্তব ব্যক্তিদের বিকৃত ও প্রায় নগ্ন এআই–পরিবর্তিত ছবি তৈরি করেছে। এমনকি শিশুদের নিয়েও আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার জন্ম দেয়।
ডিপিসি জানায়, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তারা এক্স ইন্টারন্যাশনাল আনলিমিটেড কোম্পানির (XIUC) সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এখন বড় পরিসরে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে, যেখানে জিডিপিআরের মৌলিক বাধ্যবাধকতা মানা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
GDPR লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে কোম্পানির বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে।
এর আগে ইউরোপীয় কমিশন ২৬ জানুয়ারি গ্রোক অবৈধ কনটেন্ট বিশেষত বিকৃত যৌন ছবি ছড়াচ্ছে কি না তা নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করে। ৩ ফেব্রুয়ারি ব্রিটেনের গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংস্থাও একই অভিযোগে তদন্তে নামে।
উল্লেখ্য, এক্সের মালিক Elon Musk ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত কনটেন্ট ও ডেটা নিয়ন্ত্রণ নীতির সমালোচক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–সহ প্রশাসনের কয়েকজন সদস্য ইইউর জরিমানাকে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ‘অঘোষিত কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে বিতর্কের মুখে এক্স কর্তৃপক্ষ গ্রোকের মাধ্যমে এ ধরনের ছবি তৈরি বন্ধে কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দিলেও, রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে নির্দিষ্ট প্রম্পট দিলে চ্যাটবটটি এখনও আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে, ইউরোপে এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কতটা কঠোর হবে।
সূত্র: রয়টার্স
সাবরিনা রিমি










