তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা

দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে এই আনুষ্ঠানিকতা। এরপর বিকেলেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মাধ্যমেই অবসান ঘটছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামল।
শপথের সময়সূচি ও ভেন্যু
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আজকের অনুষ্ঠানসূচি দুই ভাগে বিভক্ত। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০:০০টা সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর সংসদ সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪:০০টা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে এবং তার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রথা ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকায় যারা
তারেক রহমান তার প্রথম মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখলেও রাজনৈতিক মহলে কিছু নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
জ্যেষ্ঠ নেতা: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ড. আব্দুল মঈন খান।
তরুণ ও নতুন মুখ: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, হুমায়ুন কবির, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ফারজানা শারমিন।
জোটের শরিক: আন্দালিভ রহমান পার্থ (বিজেপি), জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর।
দেশি-বিদেশি অতিথিদের মেলা
শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন অতিথি অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন:
ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।
পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল।
নেপাল ও শ্রীলঙ্কার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিগণ।
এছাড়াও তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন।
প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
নতুন সরকারের কাছে ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী বলেছেন, “মর্নিং শোজ দ্য ডে; সরকারকে শুরুতেই উদ্যোক্তাদের আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ নিতে হবে।” তারেক রহমান ইতিমধ্যে জাতীয় ঐক্য ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে বার্তা দিয়েছেন, তা কার্যকর করাই হবে নতুন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

লামিয়া আক্তার