কিছু সময় পর শুরু হবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান

কিছু সময়ের মধ্যেই শুরু হচ্ছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত নতুন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত সরকার আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে।

বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে শপথ নেবেন নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরাও।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবার বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ ভবনের উন্মুক্ত দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছে।

দক্ষিণ প্লাজায় নির্মাণ করা হয়েছে বড় অস্থায়ী মঞ্চ ও ভিভিআইপি জোন। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন মেরামত করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক এই মুহূর্ত উদযাপিত হবে।

সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তত্ত্বাবধানে তিন ধাপে ১০০ জন করে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর দুপুরে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে। বিকেল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, খেজুর বাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং গণভবন ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেকরোডে যান চলাচল সীমিত থাকবে। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন।

অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান।

নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অংশ হিসেবে সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এক ঐতিহাসিক ক্রান্তিকাল।

আজকের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ ও সংবিধান সংস্কারের নতুন যাত্রা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে।

-এমইউএম