দিনাজপুরের ৬ আসনে জামানত হারালেন ২৭ প্রার্থী

ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরের ছয়টি আসনে মোট ৪০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ১৩ জন প্রার্থী বাদে বাকি সকল প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল): এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৭ হাজার ১৩৩ জন। ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৯৫ জন। এই আসনে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. মনজুরুল ইসলাম। জামানত রক্ষার জন্য এই আসনে একজন প্রার্থীর অন্তত ৩৮ হাজার ১১টি ভোট পাওয়ার প্রয়োজন ছিল। এখানে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন বাদে বাকি ৪ জনই সেই নূন্যতম ভোট পাননি। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
 
দিনাজপুর-২ (বোচাগঞ্জ-বিরল): মোট ভোটার ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৮ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫ জন। বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ১৯৯টি। ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মো. সাদিক রিয়াজ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ কে এম আফজালুল আনাম পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৭ ভোট। এই আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া বাকি ৬ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
 
দিনাজপুর-৩ (সদর): মোট ভোটার ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৩৭ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৮টি। বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট মো. মাইনুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট। আসনটিতে জামানত ফিরে পেতে একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল ৩৫ হাজার ৪৫৩ ভোট। ৮ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া বাকি ৬ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
 
দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর): মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৯৯১ জন। ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ২৯৮ জন। বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৬২৪টি। ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির আখতারুজ্জামান মিয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আফতাব উদ্দীন মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট। আসনটিতে জামানত টেকাতে একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল ৩৭ হাজার ৫৭৮ ভোট। ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া বাকি ২ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
 
দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী): মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১৬ জন। ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৪১ হাজার ৭৫৮ জন। বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৫টি। আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির (জামায়াত নেতৃত্বাধীন) প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৫৪৪ ভোট। আসনটিতে জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল ৪১ হাজার ৬৩০ ভোট। এই আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি, এনসিপি ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া অন্য ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
 
দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট): মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৬১২ জন। ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ৭ হাজার ২৭৭ জন। বৈধ ভোটের সংখ্যা ৪ লাখ ১ হাজার ১৮৮টি। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট। আসনটিতে জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল ৫০ হাজার ১৪৮ ভোট। এ আসনের ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া অন্য ৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
-বেলাল