‘জাল ভোট’ ও ভোটের ফল ‘বিলম্বে’ দেওয়াসহ কয়েকটি অভিযোগ নিয়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে মাঝরাতে হাজির হয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মামুনুল হক। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই প্রার্থী বলেছেন, তার আসনে অন্তত ৫০টি কেন্দ্রে ১২০০ ভোট বাতিল হয়েছে। সবগুলো কেন্দ্র হিসাবে নিলে সেই সংখ্যা অন্তত সাড়ে তিন হাজার হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।
মামুনুল হক বলেন, “আমার ভোটের ব্যবধান যেহেতু ২ হাজার ২০০ এর মতো। আমার আসনের ‘জাল ভোট’ হয়েছে। এছাড়া ভোট বাতিল করা হয়েছে। যে কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিছু ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। এটা বড় কষ্টের।”
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় মোহাম্মদপুরের শারীরিক শিক্ষা কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মামুনুল হক বলেছিলেন, তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলে ভোটের ফলাফল যা-ই ঘটুক, তিনি তা মেনে নেবেন।
সকালে মামুনুল হকের ভাষ্য ছিল, “কৃত্রিম কোনো সংকট যদি না তৈরি করা হয়, স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ যদি হয়, জনগণ যদি স্বতস্ফুর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে ভোটের ফলাফল মেনে নেব এবং তা সবারই মেনে নেওয়া উচিত।”
মাঝরাতে অভিযোগ নিয়ে হাজির হওয়ার ব্যাপারে মামুনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “একাধিক কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশ করতে বিলম্ব হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের আশঙ্কা, এই সময়টাতে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে।”
একটি কেন্দ্র ঘেরাও করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করার কারণে, ওই কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না করে, পরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে এবং ভোট ‘টেম্পারিং’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মামুনুল হক।
অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন বলেও জানান মামুনুল হক। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এর আগে রাত সোয়া ২টার পর থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সামনে হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়। ইসি ভবনের প্রধান ফটকের সামনে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা ব্যারিকেড তৈরি করেন।
এ সময় সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
-বেলাল










