যুক্তরাষ্ট্র ভানুয়াতুকে জাতিসংঘে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে। প্রস্তাবটিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ঐতিহাসিক রায়কে সমর্থন জানানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়-রাষ্ট্রগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খবর আলজাজিরার।
আল জাজিরার হাতে আসা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র ভানুয়াতু যে খসড়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছে, তাতে ট্রাম্প প্রশাসন “জোরালো আপত্তি” জানিয়েছে। প্রস্তাবটি গত বছরের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের সমর্থনে আনা হয়। ওই বার্তায় বলা হয়েছে, ভানুয়াতুকে অবিলম্বে খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং আদালতের পরামর্শমূলক মতামতকে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। গত বছর আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-এর ১৫ বিচারক হাজার হাজার পৃষ্ঠার লিখিত উপস্থাপনা ও দুই সপ্তাহের মৌখিক শুনানি শেষে রায় দেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের “অস্তিত্বগত হুমকি” মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব রয়েছে।
এই মামলাটি আদালতে গড়ায় যখন ভানুয়াতু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১৩২টি দেশের সমর্থন পায়। সাধারণ পরিষদ নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আদালতের কাছে পরামর্শমূলক মতামত চাইতে পারে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন দেশে ও জাতিসংঘে জলবায়ু পদক্ষেপ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বার্তায় দাবি করা হয়েছে, ভানুয়াতুর প্রস্তাব “অনুমানভিত্তিক জলবায়ু মডেল” ব্যবহার করে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ এবং দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘে মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার প্রতিনিধি লুই শার্বোনো ভানুয়াতুর প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি জানিয়েছেন, মার্চের শেষ নাগাদ প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি চান তাঁরা। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের স্পষ্টতা বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করবে।
ভানুয়াতুর একটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া প্রস্তাবটি বার্বাডোস, বুরকিনা ফাসো, কলম্বিয়া, জ্যামাইকা, কেনিয়া, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পালাউ, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও সিয়েরা লিওনসহ একাধিক দেশ সমর্থন করেছে। এসব দেশের অনেকই ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড়সহ জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাবের মুখোমুখি। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প তেল উত্তোলন বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন এবং জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু চুক্তি সংস্থা জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো কনভেনশন থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় দূষণকারী জাহাজ জ্বালানির ওপর আরোপিত শুল্কের পক্ষে ভোট দেওয়া কূটনীতিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
-বেলাল










