ফাল্গুন মানেই রঙ, ফুল, হালকা হাওয়া আর নতুন শুরুর আবেশ। এই ঋতুতে এলিট শ্রেণির লোকদের পোশাক সাধারণের থেকে আলাদা হয় রুচিশীল, পরিশীলিত এবং সূক্ষ্ম সৌন্দর্যে ভরা। ফাল্গুনের পোশাকে তারা এমন এক ভারসাম্য রাখেন যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলন ঘটে।
নারীদের পোশাকে ফাল্গুন মানেই হালকা, প্রবাহমান কাপড়। মসলিন, অর্গানজা, সিল্ক বা লিনেনের মতো প্রিমিয়াম ফেব্রিক বেশি প্রাধান্য পায়। রঙের ক্ষেত্রে প্যাস্টেল শেড যেমন হালকা গোলাপি, পিচ, মিন্ট গ্রিন, বেবি ব্লু ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। তবে ফাল্গুনের চিরচেনা হলুদ ও কমলাও বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তা হয় নরম ও মার্জিত টোনে। অনেকেই এই সময় অনুপ্রাণিত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর বসন্তচেতনা থেকে, যেখানে সরলতার মধ্যেই সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায়।
শাড়ি এলিট নারীদের প্রথম পছন্দ হতে পারে। সিল্ক বা হালকা জামদানি শাড়ির সঙ্গে মিনিমাল কাজ করা ব্লাউজ, মুক্তোর গয়না, আর সূক্ষ্ম মেকআপ এই সংমিশ্রণ তৈরি করে রাজকীয় অথচ সংযত লুক। অনেকেই ফিউশন স্টাইল বেছে নেন—লং কুর্তা ও পালাজো, বা হালকা গাউন-স্টাইল আউটফিট। অ্যাকসেসরিজে থাকে ব্র্যান্ডেড হ্যান্ডব্যাগ, সূক্ষ্ম হাই হিল বা ডিজাইনার স্যান্ডেল। পুরো লুকে একটা পরিমিতির ছাপ থাকে—অতিরিক্ত চাকচিক্য নয়, বরং মার্জিত উপস্থিতি।
পুরুষদের ক্ষেত্রেও ফাল্গুনে রঙের ব্যবহার দেখা যায়, তবে তা হয় সাবলীলভাবে। হালকা হলুদ, অফ-হোয়াইট, আকাশি বা ল্যাভেন্ডার রঙের পাঞ্জাবি বা কুর্তা বেশ মানানসই। প্রিমিয়াম কটন, সিল্ক-ব্লেন্ড বা লিনেন ফেব্রিক ব্যবহৃত হয় বেশি। অনেকেই পাঞ্জাবির সঙ্গে চুড়িদার বা স্লিম ফিট পায়জামা পরেন। আধুনিক এলিট পুরুষরা ফিউশন স্টাইলেও স্বচ্ছন্দ কুর্তার সঙ্গে নেহরু জ্যাকেট বা লাইট ব্লেজার।
ফাল্গুনের আবহে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আমেজও থাকে। বিশেষ করে বসন্ত উৎসব-এর মতো আয়োজনগুলোতে পোশাকে থাকে উৎসবের ছোঁয়া, তবে এলিট শ্রেণির ক্ষেত্রে তা কখনোই অতিরঞ্জিত হয় না। ফুলের প্রিন্ট, হালকা এমব্রয়ডারি বা হাতে আঁকা ডিজাইন পোশাকে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
এলিটদের পোশাকে সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ডিটেইলিং। কাট, ফিট, কাপড়ের মান সবকিছুতেই থাকে যত্নের ছাপ। তারা ট্রেন্ড অনুসরণ করলেও অন্ধভাবে নয়; বরং নিজেদের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই করে নেয়। চুলের স্টাইল, সুগন্ধি, ঘড়ি সবই সমন্বিতভাবে একটি পরিপূর্ণ উপস্থিতি তৈরি করে।
ফাল্গুনে এলিট শ্রেণির পোশাক শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রকাশ করে না, বরং তাদের রুচি, সংস্কৃতিবোধ ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়। রঙের কোমলতা, কাপড়ের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নান্দনিকতার মেলবন্ধনে তারা এই ঋতুকে ধারণ করেন এক অনন্য ভঙ্গিতে।
-বিথী রানী মণ্ডল










