ইসি ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ভোটের দিনে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান

ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনসহ সারাদেশে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও বহুস্তরীয় সিকিউরিটি বলয়ে ভোটগ্রহণের দিন ইসি ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ সুরক্ষায়।

ভোটগ্রহণের দিনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ভবন, এর কন্ট্রোল রুম, ডাটা মনিটরিং সেল এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইসি ভবনে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ, অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট বসানো এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সারাদেশে নির্বাচন নিরাপত্তায় প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখের কাছাকাছি আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনপূর্ব, ভোটের দিন এবং ভোটপরবর্তী সময় মিলিয়ে কয়েকদিনব্যাপী এই নিরাপত্তা মোতায়েন কার্যকর রাখা হয়েছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে, যার সরাসরি ফিড নির্বাচন কমিশনের মনিটরিং সেলে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অনেক সদস্যের সঙ্গে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানিয়েছে, সহিংসতা বা নাশকতার যেকোনো আশঙ্কা মোকাবিলায় বাহিনীকে হাই-অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। নির্বাচনপূর্ব সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে।

এছাড়া “ইলেকশন প্রোটেকশন” নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কেন্দ্র বা মাঠপর্যায়ে কোনো অনিয়ম বা ঘটনার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনে জানানো যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে এমন বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় মূলত ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার কৌশলের অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি যুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রভিত্তিক পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে, যা অনিয়ম প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা যেমন সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক, তেমনি ভোটার উপস্থিতি, কেন্দ্রের পরিবেশ ও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

_এজাজ আহম্মেদ