ফেব্রুয়ারিতে ৫৮ রাজনৈতিক সহিংসতায় ২ প্রাণহানি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিকদের হয়রানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক জানায়, ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৮টি ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনায় দুজন নিহত ও ৪৮৯ জন আহত হন।

এর আগে জানুয়ারির শেষ ১০ দিনে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৯টি ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত ও ৪১৪ জন আহত হন। এ ছাড়া জানুয়ারির ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার আটটি ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও ২৬ জন আহত হন। ১১ থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে ১৮টি ঘটনায় দুজন নিহত ও ১৭৬ জন আহত হন।

নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১১ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ জনে। অথচ ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনেই সারাদেশে অন্তত ৪৭ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে আসক।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ টাইমসের ২১ সাংবাদিককে কর্মস্থল থেকে সেনাক্যাম্পে নেওয়া ও প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছে আসক। আসকের বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে। এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা ফেব্রুয়ারিতে অব্যাহত থাকার পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যাও বেড়েছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজনীতি তত বেশি সহিংস হয়ে উঠছে এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির প্রবণতাও বাড়ছে।

রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। সেই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী সব পক্ষকে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ যেন অবাধ ও নিরাপদভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।

-সাইমুন