রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র ইমাম হাসান তাইমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি সম্পন্ন করেছে প্রসিকিউশন। এই মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের বক্তব্যের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দিন ধার্য করেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল এই আদেশ দেন।
আদালতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাইম হত্যার বিভীষিকাময় বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলায় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও যুগ্ম কমিশনার সুদীপ চক্রবর্তীর নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত কাছ থেকে তাইমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এমনকি তার বন্ধু রাহাত যখন রক্তাক্ত তাইমকে টেনে বাঁচাতে চেষ্টা করছিলেন, তখন পুলিশ পুনরায় গুলি চালিয়ে রাহাতকে সরে যেতে বাধ্য করে এবং তাইমকে মৃত্যুর মুখে ফেলে রাখে।
উল্লেখ্য, শহীদ ইমাম হাসান তাইমের বাবা ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া নিজেও একজন পুলিশ সদস্য (সাব-ইন্সপেক্টর)। ঘটনার পর ছেলের বুক ঝাঁঝরা লাশ দেখে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ফোনে বলেছিলেন, “স্যার, একজনকে মারতে কতগুলো গুলি লাগে? আমার ছেলে আর নেই।” এই আর্তনাদ সেই সময় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেন। আজ তাদের কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ইকবাল হোসাইন, শাকিল মোহাম্মদ শামীম, মাসুদুর রহমান মনির, নাহিদ ফেরদৌস, ওহিদুল হক মামুন, সাজ্জাদ উজ জামান ও মো. শাহদাত আলী।
প্রসিকিউশন এই ১১ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ (প্রাইমা ফেসি) দাখিল করে সর্বোচ্চ সাজার আবেদন জানিয়েছেন। ২ ফেব্রুয়ারি পলাতক ও গ্রেপ্তার আসামিদের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত চার্জ গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।