নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদরের দুই ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠেন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। বক্তব্য দিতে এসে প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর মাইক কেড়ে নেন। এ সময় দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন হাসনা মওদুদ। বিকেল নোয়াখালীর সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বাল্লাকোট্টা নামক স্থানে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন,সোমবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে বাল্লাকোট্টা নামের স্থানে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি। সেখানে অতিথি হিসেবে আসেন সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সদস্য হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি আসার পর অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়নে নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমানসহ দলীয় নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে বক্তৃতার পর্বে তাঁকে (হাসনা মওদুদ) বক্তব্য দিতে দেওয়া হলে তিনি এক পর্যায়ে বলতে থাকেন, ‘এই আসনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম।
কিন্তু আমাকে মনোনয়ন কেন দেওয়া হয়নি আমি জানি না। যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নাই।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ধানের শীষের সমর্থকেরা হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন এসে তাঁর হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেন এবং তাঁর গাড়িতে লাগানো ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে হাসনা মওদুদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জানতে চাইলে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিতে এলাকায় এসেছেন। তিনি উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলেছিলেন, তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে তারেক রহমানের নির্দেশে মনোনয়ন পএ প্রত্যাহার করেছেন। দল কেন তাঁকে মনোনয়ন দিল না, তা জানেন না। কিন্তু যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নেই।
হাসনা মওদুদ বলেন, ‘আমি ওই কথা বলতেই কয়েকজন হইচই শুরু করেন। এর মধ্যে বোতল হাতে এক ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন।’ ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ইউনিয়ন নির্বাচন সমন্বয়ক আবু হাসান মো. নোমান বলেন, হাসনা মওদুদ ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে এসে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। এতে সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হট্টগোল বাধে। কয়েকজন তাঁর গাড়িতে থাকা ধানের শীষের পোস্টার খুলে ফেলেন।
তখন তাঁরা তাঁকে নিরাপদে সেখান থেকে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে এ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। একই আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
জেলা বিএনপির সদস্য শহিদুল ইসলাম কিরণ বলেন,হাসনা মওদুদ আমাদের নেতা তারেক রহমানের ব্যাপারে কোন কিছুই বলেননি।
বি. চৌধুরী তুহিন, নোয়াখালী










