একাকিত্বকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে টিফিন বক্স : প্রান্তর দস্তিদার

ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ‘টিফিন বক্স’ চরকির ফ্ল্যাশ ফিকশন ধারার কনটেন্ট। খাবারের বাক্স যেখানে প্রেমের বাহক, আবার হাহাকারেরও নীরব সাক্ষী। এরকম একটি গল্পের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রান্তর দস্তিদার। ‘টিফিন বক্স’ প্রসঙ্গে গুণী এই অভিনেতা কথা বলেছেন আলোকিত স্বদেশের সঙ্গে। 

‘টিফিন বক্স’ কনটেন্টটি সম্পর্কে জানতে চাই?

১০ তারিখে চরকিতে আসছে টিফিন বক্স। এটি বানিয়েছেন রাকায়েত রাব্বি। রাব্বির সঙ্গে এটি আমার দ্বিতীয় কাজ। গল্পটি খুব পছন্দের ছিল বলে কাজটি করা।

এখানে আপনার চরিত্রের নাম কী? চরিত্রটি কেমন?

গল্পে আমার চরিত্রের নাম ‘জাভেদ’। শহরকেন্দ্রিক চরিত্র। পুরান ঢাকার সহজ সরল মানুষ সে। রান্না করতে ভালোবাসে। সে মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসে। সেবা করতে ভালোবাসে। ভালোবাসাও তো এক ধরনের সেবা। এই দর্শন থেকে চরিত্রটি গড়ে উঠেছে।

‘টিফিন বক্স’ নামকরণের কারণ কী?

পুরো গল্পটি টিফিন বক্সকে কেন্দ্র করে। প্রধান দুটি চরিত্রের জীবন জড়িয়ে যায়। টিফিন বক্স শুধু খাবারের গল্প নয়। বরং শহরের একাকিত্বের ভেতর মানুষের সংযোগ খোঁজার একটি চেষ্টা। বাঙালি জীবনে কাউকে খাওয়ানো কিংবা খাবার ভাগ করে নেওয়া ভালোবাসার সবচেয়ে প্রাচীন ও খাঁটি প্রকাশ। টিফিন বক্স কোনো বস্তু নয়, গল্পকে বাস্তবজীবন থেকে স্বপ্নের জগতে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম।

অন্য কনটেন্ট থেকে এটির আলাদা বৈশিষ্ট্য কী?

খুব সহজ সরলভাবে নিজের গল্পটি বলে যায়। গল্পে নাটকীয়তা আছে। আমাদের চারপাশে নানা ধরনের ঘটনা ঘটছে, তার মধ্য দিয়ে একাকিত্বকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কেউ একা থাকতে চায় না বলে একা হচ্ছে। আবার কেউ একা থাকতে হবে বলে একা হচ্ছে। প্রেম ও হাহাকারের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে এটি। যার অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে টিফিন বক্স।

ভালোবাসা দিবসকে নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

ভালোবাসা দিবস নিয়ে আমার কোনো পরিকল্পনা নেই। সেদিন যদি কোনো কাজ থাকে কাজটি করতে চাই। কারণ আমি কাজ ভালোবাসি।

শুটিং হয়েছে কোথায়?

নাটকটির শুটিং হয়েছে। ঢাকা শহরেই। পুরান ঢাকায়। এ ছাড়া উত্তরাতেও হয়েছে।

এই কনটেন্টের সঙ্গে আপনার জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পান কি না?

আমার মনে আছে ছোটবেলায় মা যখন টিফিনবক্সে রান্না করে খাবার দিতো, তখন একটু বিরক্ত লাগতো। মনে হতো এটাতো ঘরের খাবার। অন্যরা স্কুলের ক্যান্টিনে গিয়ে ভাজাপোঁড়া, চিফ কিনে খায়। এটি তো আমি খেতে পারছি না। এখন যে কোনো জিনিস চাইলেই কিনতে পাচ্ছি। এখন কাজে আসলে মাঝে মধ্যে বাসা থেকে খাবার নিয়ে এলে ভালো লাগে। টিফিন বক্স গল্পটিতেও এই বিষয়টি আছে। দুটি চরিত্র। একজন আরেকজনকে টিফিন বক্সের মাধ্যমে স্পেশাল কিছু অনুভব করছে। এই যে একটি বক্সের মাধ্যমে প্রেম অনুভূতি রসায়ন, বোঝানোর সক্ষমতার বিষয়টি আছে।

সহশিল্পী এবং পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি জানতে চাই?

সহশিল্পী হিসেবে চমকের সঙ্গে আমার এটি তৃতীয় কাজ। সে তার চরিত্রটিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারে। সহ-শিল্পী হিসেবে সে খুব ইন্টারেস্টিং। সে খুব আনন্দ নিয়ে কাজ করে। পর্দায় বেস্টটা দেয়। রাকায়েত রাব্বির সঙ্গে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চাই। একটি জটিল গল্পকেও সে সহজে উপস্থাপন করতে পারে।

-মাহমুদ সালেহীন খান