মার্কিন সংবাদ উপস্থাপক সাভানাহ গাথরির মা ন্যান্সি গাথরির নিখোঁজের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক এক ব্যক্তিকে কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। সিবিএস নিউজের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিবিসির।
অ্যারিজোনার টুসনের দক্ষিণে রিও রিকো এলাকায় ট্রাফিক থামানোর সময় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শুধু ‘কার্লোস’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ন্যান্সি গাথরিকে চেনেন না। “আমি খবর অনুসরণ করি না,” বলেন তিনি। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কার্লোস বলেন, “আমি আশা করি তারা আসল সন্দেহভাজনকে ধরবে, কারণ সেটা আমি নই।”
এর আগে এফবিআই ন্যান্সি গাথরির নিখোঁজ হওয়ার রাতের একটি ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিও ও স্থিরচিত্র প্রকাশ করে। সেখানে মুখোশ পরা এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে তার বাড়ির সামনে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দরজার ক্যামেরার কাছে গিয়ে সেটি পরীক্ষা করে এবং পরে গাছপালা দিয়ে ক্যামেরার লেন্স ঢাকার চেষ্টা করে। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, বাড়ির নজরদারি ব্যবস্থার কিছু ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে, যা আগে “হারিয়ে যাওয়া, নষ্ট হওয়া বা অপ্রাপ্য” ছিল। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, রেকর্ডিং ডিভাইস সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটতে পারে।
৮৪ বছর বয়সী ন্যান্সি গাথরি গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টুসনের ক্যাটালিনা ফুটহিলস এলাকায় নিজ বাড়িতে শেষবার দেখা গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তার বাড়ির বারান্দা থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়, যা পরীক্ষায় তারই বলে নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া তার পেসমেকারের মোবাইল অ্যাপ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার তথ্যও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য মুক্তিপণ দাবির চিরকুটও খতিয়ে দেখছেন। সেখানে ৫ ফেব্রুয়ারি ও ৯ ফেব্রুয়ারি দুটি সময়সীমা উল্লেখ ছিল।
সাভানাহ গাথরি ও তার ভাইবোনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও বার্তা দিয়ে মাকে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সর্বশেষ ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমরা আরেকটি দুঃস্বপ্নের সপ্তাহে প্রবেশ করছি। তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আমরা জানি না কোথায়। আমাদের সবার সাহায্য প্রয়োজন।” পরিবার জানিয়েছে, ন্যান্সি গাথরির শারীরিক অবস্থা নাজুক এবং নিয়মিত ওষুধ ছাড়া তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ ঘটনায় তথ্য দিলে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এফবিআই। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
-বেলাল হোসেন










