বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে একমত ভারত–মালয়েশিয়া

ছবিঃ সংগৃহীত

পুত্রজায়া – ভারত ও মালয়েশিয়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ একাধিক খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছে। রোববার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়।খবর আলজাজিরার।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠকের পর জানান, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তৃত পরিসরে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যটন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “এই অংশীদারত্ব অত্যন্ত বিস্তৃত। দুই সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার থাকায় আমরা দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারব।”

দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী মোদির এটি প্রথম সফর, ২০২৪ সালের আগস্টে দুই দেশ সম্পর্ককে ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার পর। বৈঠকের পর দুই নেতা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ মোট ১১টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী হন। আনোয়ার জানান, দুই দেশ সীমান্তপাড়ি লেনদেনে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৫ সালে ১৮.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যে ভারতের কনস্যুলেট খোলার উদ্যোগেও সমর্থন দিয়েছে কুয়ালালামপুর।

 সেমিকন্ডাক্টরে নতুন জোর 

বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতা গভীর করার প্রতিশ্রুতিও দেন দুই নেতা। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তায় অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা হবে। মালয়েশিয়া বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানিতে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে এবং এ খাত দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ অবদান রাখে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর খাতে ৩০ থেকে ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে। ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও ক্রমেই বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে দুই দেশ পাঁচটি যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে এবং ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

-বেলাল হোসেন