গাজায় ফেরত এলো ৫৪ ফিলিস্তিনির লাশ, পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ অজানা

ছবিঃ সংগৃহীত

গাজা সিটি -কোনো পরিচয় বা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তথ্য না দিয়েই গাজায় অন্তত ৫৪ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষ ফেরত দিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেরত দেওয়া অনেক মরদেহে বিকৃতি ও নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে, যা গাজাজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও গভীর মানসিক যন্ত্রণার জন্ম দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

বুধবার সাদা ব্যাগে মোড়ানো এসব মরদেহ গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে পৌঁছায়। বর্তমানে ফরেনসিক দল মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে পরিবারগুলো তাদের নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য পেতে পারে। ফিলিস্তিনি ফরেনসিক কর্মকর্তা ওমর সুলাইমান জানান, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ১২০টি বডি ব্যাগ হস্তান্তর করেছে। এর মধ্যে ৫৪টি ব্যাগে ছিল পূর্ণ মরদেহ এবং বাকি ৬৬টি ব্যাগে ছিল খুলিসহ বিভিন্ন দেহাংশ।

ফিলিস্তিনি চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি মরদেহে অঙ্গচ্ছেদ, গুরুতর আঘাত এবং নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এর আগেও ইসরায়েলি হেফাজত থেকে ফেরত আসা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মরদেহে নির্যাতন, শারীরিক নিপীড়ন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আলামত পাওয়া গেছে। গত নভেম্বরে ইসরায়েলভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস–ইসরায়েল’ এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি হেফাজতে অন্তত ৯৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব মৃত্যুর পেছনে নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা, অপুষ্টি ও শারীরিক হামলার ভূমিকা রয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এদিকে, নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ফিলিস্তিনিদের অনুসন্ধান এখন ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তাঘাট পেরিয়ে হাসপাতাল ও অস্থায়ী শনাক্তকরণ কেন্দ্র পর্যন্ত গড়িয়েছে। আল-শিফা হাসপাতালে অনেক পরিবার অস্পষ্ট ও বিকৃত ছবি দেখে পরিচিত কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। গাজার তুফাহ এলাকায় গত বছর দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য ও পানির সন্ধানে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া দুই ভাইয়ের খোঁজে হাসপাতালে আসা শাদি আল-ফায়ুমি জানান, প্রায় ১০ মাস ধরে তাদের কোনো খোঁজ নেই। তিনি বলেন, “ছবিগুলো এতটাই অস্পষ্ট যে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। এই অবস্থায় আমরা কীভাবে আমাদের আপনজনদের চিনব?”

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, মৃত্যুর কারণ, আটক থাকার সময়কাল কিংবা পরিচয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য না দেওয়ায় পরিবারগুলোর মানসিক যন্ত্রণা আরও বেড়ে গেছে। অনেক পরিবার এখনো আশার সঙ্গে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে-তাদের প্রিয়জন জীবিত না মৃত, সে প্রশ্নের উত্তর ছাড়াই। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এভাবে পরিচয়হীন মরদেহ হস্তান্তর মানবিক মর্যাদার চরম লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের পরিপন্থী।

-বেলাল হোসেন