ক্ষমতায় গেলে কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ও ক্ষুদ্রঋণ মওকুফ: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। এ কারণে আমরা জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও শক্তিতে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। বেকারদের কর্মসংস্থান, মা-বোনকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই। এবারের নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন। এসব কাজ যদি করতে হয়, তাহলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য আপনাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।

শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন তারেক রহমান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান। পরে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জনসভায় যোগ দেন।

দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবছর শীতে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়ে আসতাম। গ্রামে গ্রামে যেতাম, দুস্থ মানুষের জন্য গরম কাপড় নিয়ে হাজির হতাম। আবার ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে এসে আমি দাঁড়িয়েছি। আজ এসেছি ভিন্ন পরিস্থিতি, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।

এর আগে তারেক রহমান ২০০৩ সালের ৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও এসেছিলেন। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই অধিকার প্রয়োগ করবে মানুষ।

মঞ্চের পাশে জুলাই আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখানে যে মানুষগুলো বসে আছেন, তারা নিজেদের স্বজন হারিয়েছেন। তাদের স্বজনরা দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের অবদান বৃথা যেতে দেওয়া যায় না।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কর্মের সঙ্গে যদি নারীকে সম্পৃক্ত করতে না পারি, তাহলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ দেশের কোটি নারী শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, প্রতি ঘরে ঘরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার পরিচালনা করতে পারেন, এ জন্য প্রতি মাসে একটা সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে দুস্থ মানুষ বিভিন্ন সময় যে ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছেন, তা জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।

নির্বাচনী জনসভায় প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে কথা বলে জনগণের কোনো লাভ হবে না জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিনিকল, রেশম কারখানা, চা শিল্প আবার গড়ে তুলতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজের দাবিটা পূরণের চেষ্টা করব। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার এবং আইটি পার্ক বা আইটি হাব গড়ে তুলতে চাই।

বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, মা-বোন ও শিশুর জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামে গ্রামে হেলথকেয়ার নিযুক্ত করা হবে। এখানে মেডিকেল কলেজের যে দাবি আছে, তা বাস্তবায়ন করব। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি দেখব। বন্ধ বিমানবন্দরটিও চালু করার ব্যবস্থা করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বাস করছে। আশা করি, আগামীতেও প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন শান্তিতে বাস করতে পারেন। যে যার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাবে।

বক্তব্য শেষে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর-১ আসনের ধানের শীষের ছয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি বলেন, আপনাদের কাজ হলো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের দেখে রাখবেন। ১২ তারিখ নির্বাচিত হলে তাদের দায়িত্ব হবে ২৪ ঘণ্টা আপনাদের দেখে রাখা।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে

ধানের শীষে জোয়ার দেখে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কেউ যদি নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করে, এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে আমাদের কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হবে। শনিবার দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়; বরং জাতিকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই।

বিএনপির নীলফামারী জেলা আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে জনসভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইফুল্লাহ রুবেল।

ক্ষমতায় গেলে কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ও ক্ষুদ্রঋণ মওকুফ

ক্ষমতায় গেলে কৃষকের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ ও ক্ষুদ্রঋণ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এই জেলায় উৎপাদিত আম, লিচু ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা হবে। খেটে খাওয়া নারীসহ সবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।

তিনি বলেন, কৃষকের কাছে সার বীজ পৌঁছে দেওয়া হবে। সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ ও শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। ইমাম-খতিব ও ধর্মীয় গুরুদের মাসিক সম্মানী নিশ্চিত করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর ধানের জেলা হিসেবে পরিচিত। আর আমি ধানের জন্যই ভোট চাচ্ছি। এই জেলাকে নানির বাড়ির জেলা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে নাতি হিসেবে ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি।

-সাইমুন