ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলার নিন্দা চবি সাদা দলের

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থানরত তাঁর পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোছাইন ও যুগ্ম আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

​বিবৃতিতে সাদা দলের শিক্ষকবৃন্দ উল্লেখ করেন,’গত ৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের (যমুনা) এলাকায় শহীদ ওসমান হাদির বিচার দাবিতে অবস্থান নেয়া শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্ত্রী, পরিবার এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর কর্মীদের ওপর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে বর্বরোচিত, অমানবিক ও ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল’-এর পক্ষ থেকে আমরা তার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর একজন শহীদের পরিবারের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আগ্রাসী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি পুরনো ফ্যাসিবাদী আচরণেরই পুনরাবৃত্তি, যা জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চেতনার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।’

​বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শরীফ ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনে গুলি করা হয়েছিল এবং ১৮ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে শহীদ হন। হত্যার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।  চবি সাদা দলের মতে, এই ব্যর্থতা অন্তর্বর্তী সরকারের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করছে।

​নির্বাচন বাতিলের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করে সংগঠনটি বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ​আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৬ দিন আগে শাহবাগ ও যমুনা (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) এলাকায় এ ধরনের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করাকে অত্যন্ত ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে করছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা অপশক্তিগুলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত বা বাতিলের ষড়যন্ত্র করতে পারে। স্বৈরাচারী শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংস্কারের ভয়ে থাকা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সজাগ থাকতে দেশবাসীকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

​বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সাদা দল ৪টি দাবি জানায়। সেগুলো হলো:

১. ​জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরে অবিলম্বে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রেরণ করা। ২. ​পুলিশি তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা। ৩. ​হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা। ৪. ​প্রধান উপদেষ্টা স্বয়ং শহীদের পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করে বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা।

এছাড়াও ​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরাতন স্বৈরাচারী মানসিকতা ত্যাগ করে জনগণের সেবক হিসেবে নিরপেক্ষতা ও মানবিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সাথে ইনকিলাব মঞ্চকে উস্কানিতে সাড়া না দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে এবং দেশবাসীকে গুজব উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিরোধের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

-বেলাল হোসেন