ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৬৮ শতাংশ হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। অন্যদিকে ভোট পড়ার হার ৫৩ থেকে ৫৮ শতাংশ নেমে এলে এবং সংগঠিত ও আদর্শ ভোটারদের প্রভাব বেশি থাকলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিডি)।
বিআইডিডি সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আসন্ন নির্বাচনের চতুর্থ দফা বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে তিনটি পূর্বাভাস প্রকাশ করেছিল বিআইডিডি। সর্বশেষ প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ভোটের হার, দলভিত্তিক আসন বণ্টন, ভোটের হারের তারতম্যে ফলাফলের পরিবর্তন ও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য ভোটহার ও আসনবণ্টন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে গড় ভোট পড়তে পারে ৫৮ থেকে ৬৭ শতাংশ। সম্ভাব্য ফলাফলে:
-
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট: ১৪৭ থেকে ১৮৮ আসন
-
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট: ৭৩ থেকে ১১০ আসন
-
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ১ থেকে ৩ আসন
-
স্বতন্ত্র প্রার্থী: ২১ থেকে ২৮ আসন
-
অন্যান্য দল: ৪ থেকে ৬ আসন
গবেষণা পদ্ধতি
বিআইডিডি জানিয়েছে, পূর্বাভাস তৈরিতে প্রচলিত জনমত জরিপের পাশাপাশি আধুনিক গবেষণাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটার উপস্থিতি ও দলভিত্তিক ভোটের ধারা নিরূপণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপ যুক্ত করে মেশিন লার্নিং মডেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ভোটদানের সময় ফলাফলের মূল চাবিকাঠি
বিশ্লেষণে ভোটদানের সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোট দিতে বেশি সময় লাগতে পারে। ভোট কাস্টিংয়ে সময় বাড়লে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩৩ থেকে ৪২ শতাংশ) সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ভোট দিতে না পারার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। তবে নতুন শিক্ষিত যুব ভোটাররা যদি গড়ে ৭৬ সেকেন্ডের মধ্যে ভোট দিতে পারেন, তাহলে সামগ্রিক ভোটের হার ২.৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও নারী প্রার্থীর সম্ভাবনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রায় ৬০টি দলের মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দল আসন পেতে পারে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিজয়ী হতে পারেন। নির্বাচনে ২ থেকে ৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলে ধারণা করা হয়েছে; তবে তাদের জয়ের সম্ভাবনা মাঝামাঝি।
ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা ও অনিয়মের ঝুঁকি
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সংসদীয় ভোট ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটার, পোলিং এজেন্ট ও পোলিং কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। গণভোটে বেশি সংখ্যক ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে গিয়ে সংসদীয় নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এছাড়া কিছু দল পরিকল্পিতভাবে নিজস্ব ভোটারদের ধীরে ভোট দিতে বলার সম্ভাবনা রয়েছে, এতে সময় নষ্ট হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ কমতে পারে। জোটগুলো কোর আসন নিশ্চিত করতে গিয়ে সংঘাতে জড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার ঝুঁকিও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
-এমইউএম










