পানামা খালের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের নিয়ন্ত্রণ থেকে হংকংভিত্তিক একটি কোম্পানিকে সরিয়ে দেওয়ার পর চীনের পক্ষ থেকে ‘ভারি মূল্য’ চুকানোর হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর আলজাজিরার।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট মুলিনো বলেন, চীনা সরকারের এই হুমকি তিনি ‘দৃঢ়ভাবে’ প্রত্যাখ্যান করছেন। এই হুমকি আসে পানামার সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের পর, যেখানে হংকংভিত্তিক সিকে হাচিসন-কে পানামা খালের দুটি বন্দর পরিচালনার সুযোগ দেওয়া চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। মুলিনো বলেন, পানামা এমন একটি দেশ যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং বিচার বিভাগ কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে স্বাধীন। ‘আমরা বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি,’ বলেন তিনি। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে পানামার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে এবং ‘প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে’।
পানামা খালে সিকে হাচিসনের বন্দর পরিচালনার অধিকার হারানো বিষয়টি বর্তমানে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাব ও বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। গত বছর পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দেন, এমনকি সামরিক পদক্ষেপের কথাও বলেন এবং সিকে হাচিসনের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানান।
গত সপ্তাহে পানামার সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, সিকে হাচিসনের দেওয়া বন্দর পরিচালনার ছাড়পত্র ‘সংবিধানবিরোধী’। এই রায়কে চীনের হংকং ও ম্যাকাও বিষয়ক দপ্তর ‘হাস্যকর ও লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেয় এবং সতর্ক করে যে পানামাকে ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভারি মূল্য দিতে হবে’। এই দপ্তরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘পানামার কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি অনুধাবন করে তাদের পথ সংশোধন করতে হবে।’
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন তাদের কোম্পানিগুলোর ‘বৈধ ও আইনসঙ্গত অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে’। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ’ শীতল যুদ্ধের মানসিকতা ও আদর্শগত পক্ষপাত’ লালনের অভিযোগ তোলেন। লিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে স্পষ্ট—কারা প্রকৃতপক্ষে জোর করে পানামা খাল দখল করতে চাইছে এবং কারা আইনের শাসনের নামে আন্তর্জাতিক আইনকে ক্ষয় করছে।’ আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পানামা খালের আটলান্টিক পাশে ক্রিস্তোবাল এবং প্রশান্ত পাশে বালবোয়া বন্দর ১৯৯৭ সাল থেকে সিকে হাচিসন তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্টস কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছিল। ২০২১ সালে এই চুক্তির মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ানো হয়। তবে ট্রাম্পের খাল দখলের হুমকির পর পানামার কন্ট্রোলার জেনারেল চুক্তিটি পর্যালোচনা করেন এবং পরে তা বাতিলের সুপারিশ করেন। সুপ্রিম কোর্ট এই মতের সঙ্গে একমত হয়ে রায় দেয় যে চুক্তির শর্তগুলো পানামার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। রায়ের পর পানামা সরকার সাময়িকভাবে বন্দর দুটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ডেনমার্কের শিপিং কোম্পানি মার্স্ককে দিয়েছে, যতদিন না নতুন করে কোনো অপারেটরকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
– বেলাল










