বিশ্ব জলাভূমি দিবসে নাগরিক সংহতি সমাবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ‘নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও’ শীর্ষক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযানে সংহতি জানিয়ে বিশ্ব জলাভূমি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পদ্মা নদীর পাড়ে নাগরিক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদী অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে এর আয়োজন করা হয়।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ফেরিঘাট এলাকায় আয়োজিত এ সমাবেশের আয়োজন করে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এবং বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। সমাবেশে জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ, নাগরিক, পরিবেশকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সমাবেশে জানানো হয়, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব-এর যৌথ উদ্যোগে গত ২৪ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চর ইটালুকান্দা গ্রাম থেকে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি মুকরির উদ্দেশ্যে একক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযান শুরু করেন মাসফিকুল হাসান টনি। অভিযানের ১১তম দিনে তিনি মাওয়া ঘাট অতিক্রম করেন। এ পর্যন্ত তিনি মোট ৩৭১ দশমিক ৪১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন। এ সময় পদ্মা নদীর পাড় ধরে শতাধিক জলবায়ু কর্মী তার সঙ্গে হেঁটে সংহতি প্রকাশ করেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, নদীভাঙনে নদীপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জলবায়ু পরিবর্তন ও নদী বিপর্যয় রোধে সবাইকে আরও সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশের প্রবেশমুখ ডিগ্রির চর থেকে নদীর পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে টনি মাওয়া পৌঁছেছেন। বাংলাদেশে নদী ধ্বংস ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে তার এই একক পদযাত্রা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, টনি একা হাঁটলেও তার সঙ্গে হাঁটছে সারাদেশের প্রকৃতি ও প্রাণ রক্ষায় সচেষ্ট মানুষ। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ রাজনৈতিক নেতাদের পরিবেশ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ করবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ও ‘রিভার বাংলা’র সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, টনি আমাদের স্বপ্নের জন্য হাঁটছেন। প্রকৃতির কল্যাণে ব্যক্তি সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি, সচেতন হলেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব।
ব্রাইটার্স-এর চেয়ারম্যান ফারিহা অমি বলেন, নদী দূষণ, দখল এবং জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের বিরুদ্ধে তরুণদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নদী ও জলাভূমি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, দখল ও দূষণের কারণে দেশের নদী ও জলাভূমি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমানো, নদী দখল ও দূষণ বন্ধ করা এবং জলাভূমি সংরক্ষণে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

সমাবেশ থেকে টনির দীর্ঘ পদযাত্রার প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তারা বলেন, এ ধরনের প্রতীকী ও সাহসী উদ্যোগ জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়ের আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

-ইমরান