‘নদীভাঙন রোধ ও কর্মসংস্থানই লক্ষ্য’: বরিশালের মহাসমাবেশে তারেক রহমান

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বরিশালবাসী সরাসরি দেখার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও জনগণের নেতা তারেক রহমানকে।

বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল মহানগরের বেলস্ পার্কে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল মহাসমাবেশ। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।

মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে একনজর দেখার জন্য বরিশালের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীগণ, কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা, পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তাহলে বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, “বরিশালের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আমরা জানি, এই দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”

নারী নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দরিদ্র পরিবারগুলোকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং দরিদ্র কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসা নির্মূলে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে তিনি বেকারত্ব দূর করার অঙ্গীকার করে বলেন, বেকার যুবসমাজকে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, বরিশাল জেলা সহ বাংলাদেশের সকল বিভাগ ও জেলার রাস্তাঘাট সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন করা হবে এবং যেসব এলাকায় জনসংখ্যা বেশি, সেখানে নতুন সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে কোনো শিশু শুধুমাত্র দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষাবঞ্চিত না হয়।

সবশেষে তারেক রহমান বরিশালের সকল আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান এবং তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করতে বরিশালবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন দৃপ্ত কণ্ঠে স্লোগান উচ্চারণের মাধ্যমে—
“দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় আর কোনো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ।”

-ফাহিম আহমেদ, বরিশাল