গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজের তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।গতকাল শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের পেলাইদ গোদারাঘাট সংলগ্ন এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মোছা: বৃষ্টি আক্তার (১৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমা গ্রামের ওয়াজউদ্দিনের মেয়ে ও শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি কাইচ্চাগড় গ্রামের সম্রাটের স্ত্রী।
নিহতের বাবার অভিযোগ, স্বামী সম্রাট পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুমকরে থানায় নিখোঁজ জিডি করে। ঘটনার দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন নিহতের বাবা।
নিহতের বাবা-মা জানান, গত দুই বছর পূর্বে শ্রীপুর পৌর শহরের ভাংনাহাটি গ্রামে সম্রাটের সাথে তার বিয়ে হয়। গতকদিন আগে তার মেয়ে সম্রাটের স্বজনরা মারধর করে। বুধবার সকালে সম্রাট ফোন করে জানায় বৃষ্টিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে তারা দ্রুত স্বামীর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পান মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে বৃষ্টি নিখোঁজ হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খুঁজাখুঁজি করে সন্ধান করতে পারেনি। বুধবার বিকেলে সম্রাট শ্রীপুর থানায় স্ত্রী নিখোঁজ এর ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। শুক্রবার ১২টার দিকে জানতে পারেন পেলাইদ গ্রামের পাশে শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি মরদেহ ভাসছে। দ্রুত স্বজনর ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃষ্টির ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তারা। সম্রাট বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে মারধর করত। মঙ্গলবার সকালেও মেরেছে। প্রকল্পিতভাবে সম্রাট আমার মেয়েকে হত্যা করে নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছে । আমার অভিযোগ সম্রাট আমার মেয়েকে হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে রাখে।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ রেজাউল করিম জানান, নদীতে মরদেহ ভাসছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শীতলক্ষা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ব্যুরোঅফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর একটি দল ক্রাইম সিন সংগ্রহ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।পুলিশ নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়েছে৷
-মাহমুদুল হাসান,শ্রীপুর,গাজীপুর










