ভেনেজুয়েলার ভূগর্ভে থাকা তেল সম্পদের পরিমাণ সত্যিই বিস্ময়কর। দেশটিতে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, যা বিশ্বে মোট তেল মজুতের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তেল মজুতের সঙ্গে তুলনা করলে এটি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। আল-জাজিরার এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই বিপুল সম্পদ সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন তুলনামূলক উদাহরণে তুলে ধরা হয়েছে।
ধরা যাক, ভেনেজুয়েলার সব তেল যদি একটি সিলিন্ডার আকৃতির ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়, তবে সেটির উচ্চতা হবে আনুমানিক ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার, যা নিউ ইয়র্কের ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনের প্রায় তিন গুণ। একই সঙ্গে ট্যাংকটির ব্যাস হবে প্রায় ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার, যা স্থাপন করা হলে ম্যানহাটনের প্রায় অর্ধেক এলাকা ঢেকে ফেলতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত মিশিগান স্টেডিয়াম বা ‘বিগ হাউস’-এ একসঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার দর্শক বসতে পারেন। ভেনেজুয়েলার মজুত তেল দিয়ে এমন ৬৪ হাজার স্টেডিয়াম সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ করা সম্ভব।
তবে এই বিপুল তেল সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া সহজ নয়। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল অত্যন্ত ঘন ও আঠালো, প্রায় আলকাতরার মতো হওয়ায় এর উত্তোলন ও শোধন কার্যক্রম ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল।
এক ব্যারেল বা ১৫৯ লিটার অপরিশোধিত তেল শোধনের পর গড়ে প্রায় ৭৩ লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়। একটি ব্যারেল তেল ব্যবহার করে একটি পিকআপ ট্রাক প্রায় ৭৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল পেট্রোল ব্যবহৃত হয়। ভেনেজুয়েলার সম্পূর্ণ তেল যদি পেট্রোলে রূপান্তর করা সম্ভব হতো, তাহলে তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব যানবাহন টানা প্রায় ৪০ বছর চালানো যেত।
বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৪৫ ডলার ধরা হলে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। যদি দাম ৫৫ ডলার হয়, তাহলে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ দশমিক ৬৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালের জানুয়ারির বাজারমূল্য বিবেচনায় এই তেলের সম্ভাব্য দাম ১৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার এই তেল শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার। দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর আগ্রহের কারণে এই তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যৎ বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।










