আসন্ন জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন সিলেট-১। সিলেট জেলার ২২৯ নম্বর এই আসনটি মূলত সিলেট নগরী ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৬ জন, নারী ভোটার ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৩ জন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে-সিলেট-১ আসনে যে দল জয়লাভ করে, সাধারণত সেই দলই সরকার গঠন করে। এ কারণেই এই আসনটি ঘিরে দেশজুড়ে থাকে বিশেষ আগ্রহ ও নজর। দলীয় প্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার-সবার কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু সিলেট-১।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের মুখোমুখি লড়াইত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট আটজন প্রার্থী। এর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান।
এছাড়াও মাঠে রয়েছেন- গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর প্রণব জ্যোতি পাল, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোঃ শামীম মিয়া, এবং সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এর সঞ্চয় কান্ত দাস।
ভোটারদের চাওয়া উন্নয়ন ও সুশাসন সিলেট-১ আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা বিগত দুঃসময়ে যারা জনগণের পাশে ছিলেন, তাদেরই নির্বাচিত করতে চান। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সিলেট নগরকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহরে রূপান্তরের দাবি উঠে এসেছে বারবার।
নির্বাচনী মাঠে প্রতিদিনই চলছে গণসংযোগ, পথসভা ও লিফলেট বিতরণ। ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন প্রার্থীরা।
প্রচারণায় ব্যস্ত শীর্ষ প্রার্থীরা ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান সিলেট-১ এর অলিগলি ঘুরে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, জনগণ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে পরিবর্তন আনতে চায়।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জানিয়েছেন, এবার জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে এবং হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে সেই পরিবর্তন নিশ্চিত করবে। একইভাবে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেনও নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই
সব মিলিয়ে সিলেট-১ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াইয়ের পাশাপাশি ছোট দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনের মাঠকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
এখন শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে বেছে নেন-সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশের মানুষ।