শীতকালে কিছু অভ্যাস আরামদায়ক মনে হলেও তা নীরবে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় জীবনযাপনের কিছু অনিয়ম দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সমস্যার কারণ জানা থাকলে প্রতিরোধ সহজ হয়। আগেভাগে সচেতন হলে অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। শীতকালে যে অভ্যাসগুলো ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তা তুলে ধরা হলো—
শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া
ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ফলে অনেকেই শীতকালে তুলনামূলক অলস জীবনযাপন করেন। দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব বিপাকীয় সমস্যার সৃষ্টি করে, যা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত ওজন স্তন, কোলোরেক্টাল ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ঘরের ভেতরে হলেও নিয়মিত শরীরচর্চা এই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি
শীতকালে সূর্যালোকের সংস্পর্শ কমে যাওয়ায় শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতা কোলোরেক্টাল, স্তন ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।
প্রক্রিয়াজাত ও উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি ঝোঁক
শীতকালে উষ্ণতা ও আরামের জন্য অনেকেই উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। একই সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রম কম থাকায় ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় পরিবর্তন ঘটে। এসব পরিবর্তন স্তন ও কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ
শীতকালে জানালা-দরজা বন্ধ রাখার প্রবণতা বাড়ে। এতে ঘরের ভেতরে দূষিত বাতাস আটকে যেতে পারে। ধোঁয়া, রান্নার গ্যাস ও অন্যান্য ক্ষতিকর কণার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ ফুসফুসের টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে, যা ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া ও লক্ষণ উপেক্ষা করা
শীতকালে সর্দি-কাশি বা ফ্লু সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। এ কারণে অনেকেই দীর্ঘদিনের কাশি, অকারণ ওজন কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো লক্ষণকে অবহেলা করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গ কখনো কখনো ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। দেরিতে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে।
ঘুমের ঘাটতি ও অনিয়মিত জীবনযাপন
দিনের আলোর স্বল্পতা শরীরের জৈবিক ঘড়িকে প্রভাবিত করে। এতে ঘুমের সময়সূচি ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হরমোনের ভারসাম্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শীতকালেও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
-সাইমুন










