এপস্টেইন–কাণ্ডে লেবার পার্টি ছাড়লেন লর্ড ম্যান্ডেলসন

এপস্টেইন–কাণ্ডকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি থেকে সরে দাঁড়ালেন লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসন। দেশটির সাবেক এই মন্ত্রী জানান, আলোচিত ও সমালোচিত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর অতীত যোগাযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে কারণেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এপস্টেইন–সংক্রান্ত ঘটনায় পদ হারানোর অভিজ্ঞতা লর্ড ম্যান্ডেলসনের জন্য নতুন নয়। একই ইস্যুতে এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরও কিছু নতুন নথি প্রকাশ করে। কয়েক লাখ পৃষ্ঠার এসব নথি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নতুন নথিগুলোতে ৭২ বছর বয়সী লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম উঠে আসে।

নথিতে বলা হয়েছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে তিনটি আলাদা লেনদেনের মাধ্যমে জেফরি এপস্টেইনের কাছ থেকে লর্ড ম্যান্ডেলসন মোট ৭৫ হাজার ডলার গ্রহণ করেছিলেন, প্রতিবার ২৫ হাজার ডলার করে।

এই তথ্য প্রকাশের পর লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজের সদস্যপদ ছাড়ার কথা জানান দলের প্রভাবশালী এই নেতা। চিঠিতে তিনি লেখেন, জেফরি এপস্টেইনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ক্ষোভের সঙ্গে নিজেকে আরও যুক্ত হতে দেখে তিনি দুঃখিত ও অনুতপ্ত।

লর্ড ম্যান্ডেলসন চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, প্রায় দুই দশক আগে এপস্টেইনের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ তিনি মিথ্যা বলে মনে করেন। এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো নথি বা স্পষ্ট স্মৃতি নেই বলেও জানান তিনি। বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

চিঠিতে তিনি লেখেন, যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি লেবার পার্টিকে আর কোনো বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চান না। সে কারণেই দলের সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

লর্ড ম্যান্ডেলসন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ১৯৯২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্য ছিলেন।

সূত্র:বিবিসি

আফরিনা সুলতানা /