কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের একটি অপ্রকাশিত ভিডিও সাক্ষাৎকার সম্প্রতি জনসমক্ষে এসেছে, যা নতুন করে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে এপস্টেইন নিজেকে ‘শয়তান’ হিসেবে মানতে নারাজ হলেও তিনি যে একজন ‘যৌন শিকারি’ তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন।
নিউইয়র্কের সেই কুখ্যাত প্রাসাদোপম বাড়িতে ধারণ করা এই ভিডিওতে স্টিভ ব্যানন যখন সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনি কি নিজেকে শয়তান মনে করেন?” তখন কালো শার্ট ও সানগ্লাস পরা এপস্টেইন শান্তভাবে উত্তর দেন, “না, আমি শয়তান নই। আমার ঘরে একটি খুব ভালো আয়না আছে, যেখানে আমি নিজেকে দেখি।”
যুক্তরাষ্ট্রে যারা জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি, তাদের ‘ক্লাস থ্রি সেক্স অফেন্ডার’ বলা হয়। ব্যানন যখন এপস্টেইনকে এই ক্যাটাগরিতে ফেলার চেষ্টা করেন, তখন এপস্টেইন তা অস্বীকার করে নিজেকে ‘স্বল্পতম মাত্রার’ যৌন শিকারি হিসেবে দাবি করেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেন যে, তিনি একজন অপরাধী।
জঘন্য ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা এবং অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এপস্টেইন দাবি করেন, তার উপার্জিত সব অর্থই বৈধ। নৈতিকতার জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ন্যায্যতা বা নৈতিকতার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে অনেকেরই দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু আমি মনে করি আমার উপার্জিত অর্থ নোংরা নয়।”
জেফ্রি এপস্টেইনের জীবনের উত্থান ছিল রূপকথার মতো কিন্তু কলঙ্কিত। ৭০-এর দশকে গণিতের শিক্ষক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এই ব্যক্তি মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাবশালী বিনিয়োগ ব্যাংক ‘বিয়ার স্টিয়ার্নস’-এর অংশীদার হয়ে ওঠেন। ১৯৮২ সালে নিজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান খোলার পর তিনি বিলিয়নেয়ারদের অর্থ পরিচালনা শুরু করেন। এই বিপুল বিত্তের জোরেই তিনি ভার্জিন আইল্যান্ড ও পাম বিচে নিজের ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তোলেন, যেখানে বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
২০১৯ সালের ৬ জুলাই জেফ্রি এপস্টেইনকে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার করা হলে তার দীর্ঘদিনের গোপন অপরাধের পাহাড় ধসে পড়তে শুরু করে। তার বিরুদ্ধে কমবয়সী মেয়েদের পাচার এবং যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ সব অভিযোগ ওঠে। কিন্তু মামলার বিচারকাজ চলাকালীনই আগস্ট মাসে কারাবন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যদিও কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে ঘোষণা করেছে, তবে এর নেপথ্যে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত রয়েছে বলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত আছে। এই ফাঁস হওয়া ভিডিওটি মূলত সেই সময়ের এক দালিলিক প্রমাণ, যেখানে একজন ভয়ঙ্কর অপরাধীকে নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গাইতে দেখা যাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এপস্টেইনের মতো অপরাধীরা কীভাবে তথাকথিত ‘স্বল্পমাত্রার অপরাধী’ তকমা ব্যবহার করে নিজেদের জঘন্য কাজকে আড়াল করার চেষ্টা করেন, এই সাক্ষাৎকারটি তারই এক প্রতিচ্ছবি। এই ভিডিওটি নতুন করে প্রমাণ করে যে, অপরাধ স্বীকার করলেও অনুশোচনার বিন্দুমাত্র রেশ তার মাঝে ছিল না।