রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্য ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আকিল বিন তালিব মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনে গত সোমবার পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার আইন বিভাগের মাস্টার্সের ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটি ল’ কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই বর্ষের শিক্ষার্থী আকিল বিন তালিবও অংশ নেন। পরীক্ষায় তিনি আগের একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের পেছনের অংশে কিছু সম্ভাব্য উত্তর লিখে নিয়ে যান। পরে সেটির সাহায্যে উত্তর করার সময় পরীক্ষার পরিদর্শক অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলামের কাছে আটক হন। এতে তাকে বাকী ১৫ মিনিটের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী এ ধরনের অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটক করেন যে শিক্ষক তাকে বাদী হয়ে বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করে পরীক্ষা বাতিল চাওয়া হয়। তবে অধ্যাপক মোর্শেদুল এমন কোনো অভিযোগ করেননি।
ওই পরীক্ষায় প্রধান পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন, বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আলীম। এ ছাড়াও পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম ও অধ্যাপক আনিসুর রহমান।
অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মাস্টার্সের একটি চূড়ান্ত পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করি। পরীক্ষাটি শেষ হওয়ার সময় ছিল দেড়টা। তবে ১টার কিছু পরেই আমার কাছে কেমন যেন আকিল বিন তালেবকে সন্দেহ হয়। পরে তার পাশের পরীক্ষার্থীকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেই। তবুও বিষয়টি আমার কাছে পরিষ্কার হয় না। পরে আকিলের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র একটু পর্যবেক্ষণ করি। তার কাছে একটি আগের দিনের প্রশ্নপত্র ছিল। পরে সেটা আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগে। তখন সেটি ভালো করে সার্চ করে বুঝতে পারি তিনি আগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের পেছনে লিখে এনেছেন। আমি তৎক্ষণাৎ প্রধান পরিদর্শককে জানাই এবং তার উত্তরপত্রটি নিয়ে নেই।’
নিয়মানুযায়ী তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আকিলের বিষয়টি ধরার পরই তিনি আরেক পরিদর্শক অধ্যাপক আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। অধ্যাপক আনিসুর রহমান প্রশ্নের পেছনে থাকা উত্তরটি কেটে দিতে বলেন এবং আমাকেও কোনো আবেদন করতে নিরুৎসাহিত করেন। এ ছাড়াও এই প্রশাসনের সময়ে আগেও কোনো অভিযোগ করে সুষ্ঠু তদন্ত বা সুরাহা পাইনি। তাই এই বিষয়ে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
তবে, তার অভিযোগটি অস্বীকার করে অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, ‘তার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি একজন শিক্ষার্থীকে জালিয়াতির অভিযোগে আটক করেছেন, তারই প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করার কথা ছিল। তিনি সেটি না করে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। পুরো প্রক্রিয়ায় আমার কোনো সম্পৃক্তা নেই।’
এ দিকে আকিল বিন তালিব বলেন, ‘অভিযোগটি অনেকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করছেন। মূলত আমি আমার আগের একটি প্রশ্নের পেছনে একটি রেফারেন্স ও কয়েকটি ধারা লিখে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি পুরো পাতাজুড়ে কোনো কিছু লিখে নিয়ে যাইনি।
-সাইমুন










