জয়পুরহাট জেলার উত্তরের শেষ প্রান্তে দিনাজপুর জেলা সংলগ্ন পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আঙ্গড়া গ্রামের মোঃ আমিনুর ইসলাম আমু মেম্বার এখন একজন সফল আলু চাষী। তিনি কয়েক বছর যাবত এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসাবে স্থানীয়দের বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করার পাশাপাশি আলু চাষেও একজন সফল কৃষক। অনেক আগে থেকেই জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি আমু “দুই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক সোপ” নামে ক্ষুদ্র একটি কারখানা করেন। কারখানায় তিনি নিয়মিত ধান কাটা মাড়াই মেশিন তৈরি করে স্বল্প মূল্যে এলাকার কৃষকের কাছে বিক্রয় করে আসছেন। এছাড়া আমু মেম্বার ধান, গম, ভুট্টা, হলুদ ও মরিচ ভাঙ্গার মিল স্থাপন করেন উপজেলার মাঝিনা বাজারের পূর্বে ৪’মাথা মোড়ে। ফলে গ্রামীণ জনপদের মানুষের দোড় গোড়ার শহরের সুযোগ সুবিধা গুলো পৌঁছে দেয় অনেক উপকার ভুগীদের এমন মন্তব্য।
উপজেলার মাঝিনা-আঙ্গড়া মাঠে সরেজমিনে দেখা যায়, আমু মেম্বার নিজের ও অন্যের জমি লিজ নিয়ে এক দাগে ৬০’বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধি ছাড়াও, ধান কাটা মাড়াই মেশিন তৈরি এবং কৃষকের নৃত্য প্রয়োজনীয় ধান গম ভুট্টা হলুদ ভাংগার পাশাপাশি এবছর আলুর চাষ করে। মেম্বারের “দুই ভাই সীড এগ্রো ফার্মের” ম্যানেজার ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফার্মে চলতি বছর ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্রানুলা, সানসাইন, ভ্যালেনসিয়া, বারি আলু ৮৬, মিউজিকা, আটলান্টিক, লাল -সাদা পাকড়ী জাতের আলু আছে। তিনি আরো বলেন, খাবারের আলুর পাশাপাশি ২০’বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের উন্নতমানের বীজ আলু চাষ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে আলু রোপণ থেকে উত্তোলন এবং সার, কীটনাশক, বীজ ও শ্রমিক খরচ প্রায় (৩০-৩৫) হাজার টাকা হলেও বীজ আলুর ক্ষেত্রে ৬০ হাজার খরচ হয়েছে। জমিতে যেভাবে আলুর গাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে আশা করা যায় বীজ আলু বিঘা প্রতি (৬০-৬৫) মন এবং খাবার আলু (৯০-১০০) মন পর্যন্ত হবে বলেন, ম্যানেজার ফরিদুল। আলুর দাম ঠিক মতো পাওয়া গেলে ভালো লাভ হবে বলে জানায় সফল আলু চাষী আমু মেম্বার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, ২০২৫-২৬ অর্থ বছর উপজেলায় ৮’হাজারের অধিক হেক্টর বিঘা জমিতে আলর চাষ হয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিস আলু চাষিদের প্রণোদনা দেওয়া সহ সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
জয়নাল আবেদীন জয়, জয়পুরহাট/










