নির্বাচনের মাঠে ভাষা ও আচরণ নিয়ে আর কোনো ছাড় দিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ব্যক্তিগত কুৎসা, অশালীন ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চরিত্রহনন কিংবা ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্যকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেছে কমিশন। এসব আচরণকে নির্বাচন-পূর্ব গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর শাস্তির কথাও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
ইসির জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারণা হতে হবে শালীন, দায়িত্বশীল ও আইনসম্মত। ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ আর থাকবে না—এমন বার্তাই দিয়েছে কমিশন।
কী কী নিষিদ্ধ:
বিধিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণাকালে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা ব্যক্তিগত কুৎসা রটাতে পারবেন না। অশালীন ভাষা, মানহানিকর বক্তব্য কিংবা লিঙ্গ, ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে বিভাজন সৃষ্টিকারী মন্তব্যও নিষিদ্ধ।
একই সঙ্গে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না। নির্বাচন উপলক্ষ্যে কারও জমি, ভবন বা অন্য কোনো সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, জোরপূর্বক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বলপ্রয়োগ ও অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা:
ভোটারদের প্রভাবিত করতে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত চৌহদ্দির মধ্যে কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, লাঠি কিংবা দেশীয় অস্ত্র বহন করতে পারবেন না।
শাস্তির বিধান কতটা কঠোর:
আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তা আরপিও অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ বিধিমালা ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দলকেও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে ইসি প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রেখেছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনে লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনের সময়সূচি:
ইসি জানিয়েছে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চলবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
বার্তা স্পষ্ট:
নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে—ভোটের মাঠে উত্তেজনা নয়, শালীন প্রতিযোগিতাই কাম্য। নিয়ম ভাঙলে যে ছাড় নেই, সে বার্তাও এবার আগেভাগেই দিয়ে দিল সাংবিধানিক এই সংস্থা।