দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের জন্মভূমি ও রাজনৈতিক দুর্গ বগুড়ায় ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে বগুড়াবাসীর মাঝে সৃষ্টি হয় এক নজিরবিহীন আবেগঘন পরিবেশ।
বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে তারেক রহমান বলেন, “প্রায় ১৯ বছর পর আল্লাহ আমাকে আবার নিজের মাটিতে ফিরে আসার তৌফিক দিয়েছেন। নিজের ঘরে ফিরে আজ কী বলবো, তা বুঝে উঠতে পারছি না।” দীর্ঘদিন পর বগুড়াবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন এবং অতীতের উন্নয়নমূলক কাজের কথা স্মরণ করেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে ২০০১-২০০৬ সালের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “বগুড়াকে আমি সবসময় একটি মডেল জেলা হিসেবে বিবেচনা করতাম। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বনানী-মাটিডালি সড়ক প্রশস্তকরণ এবং গ্যাস সংযোগসহ নানা অবকাঠামো মানুষের চাহিদার ভিত্তিতেই করা হয়েছিল।” তিনি উল্লেখ করেন, এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল যাতে চিকিৎসা বা শিক্ষার জন্য বগুড়ার মানুষকে ঢাকামুখী হতে না হয়। এই মডেলটিই তিনি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
বিগত ১৫ বছরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শুধু বগুড়াই নয়, এই সময়ে পুরো বাংলাদেশই উন্নয়ন ও অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।” তিনি ঘোষণা দেন, ভবিষ্যতে জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে বগুড়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো শেষ করার পাশাপাশি সমগ্র দেশকে সুষম উন্নয়নের আওতায় আনা হবে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান বলেন, “এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকবে কি না।” তিনি জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিটি ভোটারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের মঞ্চে ডেকে নেন। তিনি নিজে তাদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে ভোটারদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
রাত ১২টা পার হলেও আলতাফুন্নেসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তিল ধারণের জায়গা ছিল না। শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রিয় নেতার কথা শুনতে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।