ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে অত্যন্ত সংক্রামক বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা। প্রতিবেশী দেশটির বিহার রাজ্যে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো রাজ্যজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রবিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিহারের দারভাঙ্গা জেলার ভিগো এলাকায় হঠাৎ বিপুল সংখ্যক কাকের রহস্যজনক মৃত্যু জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মৃত পাখিদের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ভোপালের বিশেষ পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে এইচ৫এন১ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
সংক্রমণ শনাক্তের পর দারভাঙ্গা পৌরসভা ও পশুপালন দপ্তরের বিশেষ মেডিকেল টিম জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। মৃত পাখির দেহ নিরাপদভাবে অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পোলট্রি খামারগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। খামারের হাঁস-মুরগির রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং ভাইরাসের সম্ভাব্য উৎস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বার্ড ফ্লু মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এর মধ্যে এইচ৫এন১ ধরনটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। নিপা ভাইরাসের মতো এটি প্রাণিজগত থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। যদিও মানুষের মধ্যে সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বিরল, সংক্রমিত পাখির সঙ্গে দীর্ঘসময় সংস্পর্শে এলে মানুষও আক্রান্ত হতে পারেন। লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে তীব্র জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শরীরব্যথা।
বিহার রাজ্য সরকার সাধারণ জনগণের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে: মৃত বা অসুস্থ পাখি দেখা গেলে স্পর্শ করা যাবে না।
অস্বাভাবিক পাখির মৃত্যু নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে। পোলট্রি খামার ও বাজার এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধ করা এবং জনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখা।
-সাইমুন










