‘খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামে বাড়ি দখলচেষ্টা, উচ্ছেদ করলেন মিনু

রাজশাহীতে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি-বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে দখলচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানতে পেরে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু রোববার বিকেলে উপশহর এলাকায় বাড়িটিতে গিয়ে ওই কার্যালয় উচ্ছেদ করেন।

উপশহর ২ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের ৯৬ নম্বর চারতলা বাড়িটির মালিক আইনজীবী আকরামুল ইসলাম। তাঁর দাবি, ভাড়া না দিয়ে বাড়িটি দখলেরও চেষ্টা হচ্ছিল।
অ্যাডভোকেট আকরামুল ইসলামের বাড়িটি কয়েক মাস আগে মাসিক ২৯ হাজার টাকার ভাড়া নেন জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি। পরে সেখানে ‘মাদার অব

ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামে সংগঠনের অফিস খোলেন। তিনি নিজেকে এ সংগঠনের সভাপতি পরিচয় দেন। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি, ব্যানার ও সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। বারবার ভাড়া চাইলেও তিনি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলও দিচ্ছিলেন না।

এ অবস্থায় শনিবার আইনজীবীর ছেলে সায়েমুল ইসলাম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়, ‘কতিপয় বিএনপির নেতাকর্মী দ্বারা আমাদের বাড়ি দখল!’ স্ট্যাটাসটি নজরে আসে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর। তিনি নিজেই রোববার দুপুরে সেখানে উপস্থিত হন। তাঁর নির্দেশে ওই বাসা থেকে সব সাইনবোর্ড, ব্যানার খুলে ফেলা হয়। তিনি মালিককে বাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে ফিরে আসেন।

জানতে চাইলে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দখলদাররা কে বা কারা আমার জানা নেই। এ ধরনের কোনো সংগঠন বিএনপির আছে বলেও জানা নেই। আমার উপস্থিতি টের পেয়েই দখলদাররা পালিয়ে যায়। একটি মেয়ে রান্না করছিল, সে কিছু বলতে পারেনি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে থানায় জিডি করব। বাসা মালিককেও বলে এসেছি যেন কোনো ভয় না পায়।’

অ্যাডভোকেট আকরামুল ইসলাম বলেন, ‘এরা হাউজিংয়ের অফিসের কথা বলে বাসা ভাড়া নেয়। পরে খালেদা জিয়া পরিষদের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। ভাড়া দিত না। কিছু বললে হুমকি দিত। মিনু ভাই এসে তাদের উচ্ছেদ করে গেছেন।’

নিজেকে বেগম খালেদা জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিচয় দিয়ে জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা অফিস হিসেবে ভাড়া নিয়েছি। দুই মাসের অগ্রিম টাকাও দেওয়া আছে। আমাদের ডিড আছে। দখল করব কেন?  তিনি আরও বলেন, বাড়ির মালিক আমাদের নোটিশ দিয়েছেন। বলেছি, ফেব্রুয়ারি মাসেই চলে যাব। কিন্তু তাঁর ছেলে ফেসবুকে ছড়িয়ে এটা করেছে। এতে মিনু ভাই বিরক্ত হয়ে আমাদের উঠিয়ে দিয়েছেন।

-সাইমুন