নতুন দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই, সাবেকদের জামানত ঝুঁকিতে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসন এখন জল্পনা-কল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন; এর মধ্যে দুইজন সাবেক এমপি থাকলেও ভোটের মূল লড়াইটি হবে নতুন প্রার্থী বিএনপির লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের আওরঙ্গজেব বেলালের মধ্যে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির তিনবারের সাবেক এমপি ফখরুল ইমামের জন্য জামানত হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ আসনের প্রার্থীরা হলেন:

বিএনপি: লুৎফুল্লাহেল মাজেদ

১১ দলীয় নির্বাচনী জোট (এলডিপি): আওরঙ্গজেব বেলাল

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: শাহ নূরুল কবির

জাতীয় পার্টি: ফখরুল ইমাম

উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ঈশ্বরগঞ্জে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৭৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬। এছাড়া পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত ৩ হাজার ১৩১ জন।

নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীরা গণসংযোগে ব্যস্ত। হাট-বাজার, ভোটারদের বাড়ি-ঘর, মিছিল-মিটিং ও উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক সংস্কার, কৃষি উন্নয়ন এবং বেকারদের কর্মসংস্থানসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও এবার তার জনপ্রিয়তা কম। ভোটাররা মনে করছেন, পূর্বের মতো তিনি এবার সহজে জয়ী হবেন না। ফখরুল ইমাম স্বীকার করেছেন, “আমাকে সাধারণ মানুষ ওইভাবে পায়নি। তবে দলের সক্রিয় নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করেছে। আমার সময়ে ঈশ্বরগঞ্জে ২৫৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।”

২০০১ সালে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত শাহ নূরুল কবির এবার দল বদল করে ইসলামী আন্দোলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, “আমি এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছি। নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”

১১ দলীয় জোটের আওরঙ্গজেব বেলালও ভোটের মাঠে সাড়া পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগে প্রচুর ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। জোটের নেতাকর্মীরাও আমার জন্য মাঠে কাজ করছেন। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”

দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসা বিএনপি প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদও ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “দায়িত্ব পেলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বেকারদের কর্মসংস্থানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ময়মনসিংহ-৮ আসনে মূল লড়াই হবে নতুন দুই প্রার্থীর মধ্যে, আর সাবেক এমপিরা এবার কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি।

-মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ