আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সাধারণ মালিকদের গাড়ি রিকুইজিশন করা হচ্ছে। রিকুইজিশনকৃত গাড়িগুলোর মালিকের দৈনিক আয়, ড্রাইভার ও স্টাফদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে কোন নিশ্চয়তা প্রদান করা হচ্ছে না। শুধু প্রতিটি গাড়ির চালককে রিকুইজিশন সিল্প ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য বাস রিকুইজিশন নেয়া হলেও বাস মালিকদের ভাড়া বা ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা নেই। নির্বাচনকে সামনে রেখে দূরপাল্লার যানবাহন রিকুইজিশনের কারণে সারা দেশে যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম।
শনিবার (৩১জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গাড়ি রিকুইজিশন প্রসঙ্গে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচন উপলক্ষে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার দূরপাল্লার যানবাহন রিকুইজিশন করেছে ট্রাফিক পুলিশ, যা সাধারণ যাত্রী চলাচলে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজধানীতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তিন দিন এবং পরে দুই দিন মোট পাঁচ দিনের সরকারি ছুটির ফলে স্বাভাবিকভাবেই আন্তজেলা রুটে যাত্রী চাপ বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে দূরপাল্লার বাস রিকুইজিশন করা হলে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, রিকুইজিশনকৃত গাড়ির ভাড়া, স্টাফদের বেতন এবং জ্বালানি খরচ সম্পর্কে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়নি নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও খরচ বহনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাইফুল আলম আরো বলেন, দেশের অধিকাংশ পরিবহন ব্যাংক বা লিজিং কম্পানির ঋণে কেনা। প্রতিদিন তেল, চালক-সহকারীর বেতন ও অন্যান্য খরচ মেটাতে হয়। এসব ব্যয়ের নিশ্চয়তা না থাকলে রিকুইজিশনকৃত গাড়িগুলো নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তিনি পরামর্শ দেন, আন্তজেলা দূরপাল্লার বাসের পরিবর্তে স্থানীয় রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস রিকুইজিশন করা হলে যাত্রী ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে রিকুইজিশন করা দূরপাল্লার গাড়িগুলো দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
সংগঠনটির ধারণা, নির্বাচনের সময় যাত্রী চাপ ঈদের সময়ের মতো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দূরপাল্লার গাড়ি সংকট দেখা দিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।
পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত আর্থিক কাঠামো ও অর্থপ্রদানের উৎস স্পষ্ট করে ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে মালিক ও শ্রমিক উভয়পক্ষই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত হতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে রিকুইজিশনকৃত গাড়ির ক্ষতিপূরণ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, বাস মালিকরা কত টাকা পাবেন, চালক ও হেলপারদের বেতন, খোরাকি ও জ্বালানি ব্যয়ের অর্থ কে দেবে-এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
‘প্রতিটি বাসই ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে কেনা। এসব বাস চালাতে জ্বালানি খরচ, চালক ও হেলপারসহ কর্মীদের বেতন ও খোরাকি দিতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অর্থ বরাদ্দ বা স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে রিকুইজিশন করা বাসগুলো সময়মতো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মালিক সমিতি,’ বলেন সাইফুল আলম।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন বলেন, আমরা গাড়ি না দেয়ার জন্য বলছি না। কিন্তু গাড়ি রিকুইজিশনের পর যদি হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন, সে ক্ষেত্রে আমাদের দায়ী করা যাবে না। তিনি আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস রিকুইজিশনের বিপরীতে সরকারকে শহর ও শহরতলীর বাস এবং সরকারি পরিবহন পুলের পরিবহন রিকুইজিশনের পরামর্শ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, সংগঠনের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুম সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।